এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, ন্যায্য আলোচনার জন্য প্রস্তুত তেহরান, কিন্তু হুমকি বন্ধ করতে হবে। আর, এ উত্তেজনার মধ্যেই মস্কোতে তেহরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পুতিন।
ইরানকে চাপে রাখতে, গত কয়েক সপ্তাহে পারস্য উপসাগরে সামরিক শক্তি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়েছে একের পর এক যুদ্ধ জাহাজ-সামরিক নৌবহর। এবার ইসরাইলের ইলাত বন্দরে বহুমুখী মিসাইল ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ নোঙ্গর করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরাইলি বন্দরে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কারণ নিয়ে মুখ খুলছে না মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
এখানেই শেষ নয়, গতকাল স্থানীয় সময় (শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি) ট্রাম্প দাবি করেছেন মার্কিন হামলা এড়াতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি করতে চায় তেহরান। এজন্য খামেনি প্রশাসনকে নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়েছেন তিনি।
কিন্তু দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হলে সামরিক অভিযান চালানো হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাব সরাসরি এড়িয়ে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে, তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, ইরানের কাছাকাছি থাকা মার্কিন নৌবহর আর্মাডা, ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালানো নৌবহরের চেয়েও বড় এবং শক্তিশালী।
প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের আর্মাডা নৌবহর ইরানের দিকে যাচ্ছে। ভেনেজুয়েলায় যে নৌবহর পাঠানো হয়েছিল এটা তার থেকেও অনেক বড়। এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না। সামরিক হামলার বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে মনে রাখবেন খুব শক্তিশালী ইরান অভিমুখে খুবই শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে।’
আরও পড়নু:
এদিকে, চলমান এ উত্তেজনার মধ্যে তুরস্ক সফরে যান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সেখানে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাফ জানান, ক্রমাগত হুমকির মধ্যে কোনো আলোচনা হবে না। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ন্যায়সংগত সংলাপে বসতে প্রস্তুত আছে তেহরান কিন্তু পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো সমঝোতা করবে না খামেনি প্রশাসন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘ইরানের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়ে কোনো আলোচনা বা সমঝোতা হবে না। আমরা কোনভাবেই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার বিষয়ে ছাড় দেবো না। ইরানের নিরাপত্তা নিয়ে অন্য কারোর মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। উত্তেজনা প্রশমনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ন্যায়সংগত সংলাপে বসতে প্রস্তুত আছে তেহরান।’
এসময়, সম্ভাব্য সংঘাত বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটনকে আলোচনায় টেবিলে ফেরানোর প্রচেষ্টার কথা জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে আঙ্কারার অভিযোগ, ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল।
আরও পড়ুন:
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে রাশিয়াও। গত শুক্রবার মস্কোতে তেহরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পুতিন।
অন্যদিকে, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এর মূল্য দিতে হবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা। এ ঘোষণার পরপরই তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে মিত্রদেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তৎপর হওয়ার ঘোষণা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের।
সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি কিংবা কূটনৈতিক এ ডামাডোল ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে খামেনি প্রশাসন। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত দেশটিতে মুখ থুবড়ে পড়েছে ১০ লাখের বেশি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বেচাকেনা কমেছে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। আর এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা।





