মাসের বেতন থেকে টাকা সঞ্চয়ের কার্যকর কৌশল

সঞ্চয় করার কৌশল
সঞ্চয় করার কৌশল | ছবি: এখন টিভি
0

মাসের শুরুতে বেতন হাতে এলেই যেন টাকার পাখা গজায়—কিছু না কিছু খরচ হয়ে যায় চোখের পলকে। মাস শেষ হতে না হতেই হাতে থাকে টান, আর সঞ্চয় থাকে কেবল ইচ্ছার তালিকায়। অথচ সঠিক পরিকল্পনা আর কিছু বাস্তবসম্মত কৌশল মেনে চললে সীমিত আয়ের মধ্যেও নিয়মিত সঞ্চয় গড়ে তোলা সম্ভব। খরচের চাপ সামলে কীভাবে মাস শেষে কিছু টাকা আলাদা করবেন, সেই পথটাই দেখাবে এ লেখা।

মাসের শুরুতে বাজেট তৈরি করা

প্রতি মাসের শুরুতেই বেতন পাওয়ার পরপরই বাজেট তৈরি করে নিতে হবে। বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, বিদ্যুৎ, পানি, জরুরি খরচ সেই অনুযায়ী খরচ করতে হবে। মাসের শুরুতে আয় থেকে কিছু অংশ আলাদা করে জমিয়ে রাখতে হবে। সেই টাকা বাজেটের বাইরে প্রয়োজন না হলে খরচ করা যাবে না।

খরচের হিসাব রাখা

প্রতিদিন কত টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে, সেটার হিসাব রাখতে হবে। এটা না রাখলে কোথায় টাকা অপচয় হচ্ছে, তা-ও জানা যাবে না। ছোট নোটবুক বা মোবাইলের নোটে খরচ লেখার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। এতে করে ওই মাস শেষে কোন কোন খাতে টাকা অপচয় হয়েছে বা প্রয়োজন ছাড়া খরচ করা হয়েছে তা বের হয়ে আসবে। এতে করে পরের মাস থেকে সে জায়গাগুলোতে খরচ করার সময় সচেতন হওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:

বাইরের খাবার কমিয়ে দেয়া

মাস থেকে টাকা সঞ্চয় করতে চাইলে বাইরে খাবার খাওয়ার ট্রেন্ড থেকে বের হয়ে আসতে হবে। মাসে এক থেকে দই দিন বাইরে রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়া যেতে পারে। তবে সেটি যেন প্রতিদিন না হয়। এতে টাকাও সাশ্রয় হবে, স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।

কেনাকাটায় সচেতন হতে হবে

প্রতি মাসে নির্দিষ্ট তালিকা করে কেনাকাটা করতে হবে। উল্টাপাল্টা কিছু কিনে টাকা খরচ করা যাবে না। মাসের শুরুতেই উল্টাপাল্টাভাবে খরচ করা যাবে না। এর পরিবর্তে মাসের প্রথম দিকে যা যা প্রয়োজন তার একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর একটি নির্দিষ্ট দিন করে কিনতে হবে। এতে মাসের খরচ অনেকটাই কমে যাবে।

অফার দেখলেই কেনা যাবে না

কোনো প্রলোভনে পড়ে যে জিনিসের প্রয়োজন নেই তেমন কিছু কেনা যাবে না। অনেক সময় ভাবা হয় ‘অফার শেষ হওয়ার আগেই কিনে নিই’। কিন্তু আসলে দেখা যায় অফার থাকার কারণে জিনিসটা কেনা হয়েছে, তবে আদতে সে জিনিসের কোনো প্রয়োজন নেই। সেক্ষেত্রে টাকা অপচয় হয়ে যায়। সেজন্য অফারের জিনিস কেনার ক্ষেত্রে খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

আরও পড়ুন:

গণপরিবহন ব্যবহার করা

উবার, সিএনজি বা বাইকের বদলে বাস বা ট্রেনে যাতায়াত করা যেতে পারে। এতে যাতায়াত খরচ কমে যাবে। তাহলে মাস শেষে যাতায়াত খাত থেকেই ভালো অঙ্কের টাকা জমবে।

পুরুষ হলে রাইড শেয়ারিংয়ের চেষ্টা

মাসিক বেতন থেকে সঞ্চয় বাড়ানোর একটি কার্যকর উপায় হতে পারে রাইড শেয়ারিং। আপনি যদি মোটরসাইকেল চালাতে অভ্যস্ত হন, তাহলে অফিসে যাওয়া–আসার পথে রাইড শেয়ারিং করা যেতে পারে। এতে দৈনিক যাতায়াত খরচের বড় একটি অংশ সহজেই উঠে আসবে। এমনকি, বাইকের জ্বালানি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ খরচও এতে কাভার করা সম্ভব। ফলে বেতনের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে যায় এবং মাস শেষে সঞ্চয়ে কিছু বাড়তি টাকা যোগ করার সুযোগ তৈরি হয়। নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে রাইড শেয়ারিং করলে তা হতে পারে আয় বাড়ানোর একটি বাস্তবসম্মত মাধ্যম।

ধার করা যাবে না

অনেক সময় মাসের শেষ দিকে পকেটে টান পড়লে সহজেই ধার নেয়া হয়। এ কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বারবার ধার নেয়ার অভ্যাস মাস শেষে ঘাটতি আরও বাড়িয়ে দেয়। এর চেয়ে খরচে কিছু কাটছাঁট করতে হবে।

সঞ্চয়ের জন্য আলাদা হিসাব

প্রতি মাসের বেতন থেকে শুরুতেই আলাদা করে রাখতে হবে ভবিষ্যতের সঞ্চয়ের জন্য। আর শুধু রাখলেই হবে না, তা আলাদা একটি খাতা বা নোটে টুকে রাখতে হবে। এটি মাসের শুরুতেই রাখতে হবে কারণ পরে জমানোর চিন্তা করলে মাস শেসে এ টাকা আর জমানো হবে না। সেজন্য আগেই এ হিসাব আলাদা করে রাখতে হবে।

এসএস