পরিবারতন্ত্রের বিজয় চায় না জামায়াত- মহিলা সমাবেশে জামায়াত আমির

মহিলা সমাবেশ
মহিলা সমাবেশ | ছবি: এখন টিভি
0

জামায়াতের মহিলা সমাবেশে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৮ কোটি মানুষের দেশে ব্যক্তি-গোষ্ঠী বা পরিবারতন্ত্রের বিজয় চায় না জামায়াত। ক্ষমতায় গেলে নারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এর আগে নিজ নির্বাচনি আসন ঢাকা-১৫ তে গণসংযোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান।

গত বুধবার দুপুরের পর থেকেই মনিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একে একে জড়ো হতে থাকেন নারীরা। বিকেল সাড়ে তিনটার মধ্যেই ভরে যায় স্কুল মাঠ।

ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে অনুষ্ঠিত হয় মহিলা সমাবেশ। জামায়াতের ইতিহাসে এটিই প্রথম প্রকাশ্য নারী সমাবেশ।

সমাবেশে আমিরের পক্ষে ভোট চান তার সহধর্মিণী ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আমেনা বেগম। মহিলা জামায়াতের নেত্রীরা অভিযোগ করেন, সারা দেশে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন নারীরা।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (মহিলা শাখা) কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নূরুন্নেসা সিদ্দিকা বলেন, ‘আপামর জনতা সবাই মিলে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত শান্তি-সুখের, ন্যায়- ইনসাফের দেশ আমরা গঠন করব। এ লক্ষ্যে আমরা সকলে আমরা আমাদের বিবেকের রায় প্রদান করব।’

সমাবেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘তার দল ক্ষমতায় এলে নারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি কর্মঘণ্টা কমানো হবে। এসময় নির্বাচনি প্রচারে মা-বোনদের অনেক জায়গায় বাধা দেয়া এবং হামলার অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নারীরাও কর্মক্ষেত্রে সমান অবদান রাখবেন। তাদের সম্মান এবং নিরাপত্তা আমরা যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করব। শহরে তাদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস থাকবে। পিক আওরে তাদের জন্য আলাদা গাড়িরর ব্যবস্থা থাকবে। মা’দের জন্য সেখানে বেবি কর্নার থাকবে। ডে কেয়ার থাকবে।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত মা’য়েরা সন্তান পালন করেন তাদের জন্য আমরা পাঁচ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা করতে চাই। কিছু মানুষ হৈ হৈ রৈ রৈ শুরু করলো। পাঁচ ঘণ্টা করলে মানুষ আর তাদের কর্মক্ষেত্রে নেবে না। আমাদের কথা ন শুনেই চিৎকার শুরু করল। লাফালাফি শুরু করে দিলো আমরা কী বলেছি বোঝারও চেষ্টা করেনি।’

এর আগে নিজ নির্বাচনি এলাকায় সকাল থেকেই প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটান জামায়াতের আমির। উত্তর কাফরুল হাই স্কুল এলাকা থেকে শুরু করে উত্তর ও পূর্ব কাফরুলের বিভিন্ন সড়কে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি।

জামায়াতে আমির বলেন, ‘শুধু নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কেন, এর আগে আমাদের লোকদের ওপর জায়গায় জায়গায় হামলা হয়েছে। এমনকি মা বোনদের পেটে লাথি দেয়া হয়েছে। আমরা সবাইকে অনুরোধ করব এটি রাজনীতি নয়। রাজনীতির নামে এটি অপসংস্কৃতি। কর্তৃপক্ষ যারা আছে তাদের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি। আমরা কিছু প্রতিকার পেয়েছি। একেবারে কিছু পাইনি তা বলবো না। তবে আরও অনেক প্রয়োজন আছে।’

নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন জামায়াত আমির।

এফএস