রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচনি প্রচারণায় রাত ৮ টার পর মাইকের ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মধ্যরাত পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করে চলছে নির্বাচনি সমাবেশ। যদিও এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলছে রাজনৈতিক মহলে।
এদিকে নির্বাচনি প্রচারে ভোটারপ্রতি ১০ টাকা খরচ করার বিধান থাকলেও এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই প্রচারণার সুযোগ নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করছে দলগুলো। পরিসংখ্যান বলছে, ইসির বিধি ভেঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগেই দলগুলো ফেসবুকে ৫০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করে। যেটির বর্তমান হিসেব বেড়েছে কয়েকগুণে। এতে বিএনপি-জামায়াত কেউই পিছিয়ে নেই। একইসাথে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও আচরণবিধি অমান্য করে চলছে প্রচারণা. ইসির হিসেবে গত ৮ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এসব ঘটনায় ১২৮ নির্বাচনি এলাকায় ১'শ ৪৪ টি আচরণবিধি লঙ্ঘনে ৯৪টি মামলাসহ ৯ লাখের বেশি জরিমানা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আচরণবিধির এসব বিষয়ে মনিটরিংয়ে ইসির তৎপরতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে বিধিমালায় সংশোধনেরও জোর দেন তারা।
নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বলেন, ‘একজন প্রার্থী কিভাবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টাকা খরচ করছে এটার মনিটরিং নেই। যদিও প্রার্থীরা নির্বাচনের পরে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের খরচের হিসাব জমা দেয়। ওখানে খাতা খোলা থাকে। কিন্তু সেটা কতটুকু সত্য তা দেখার মতো মেকানিজম আমাদের দেশে নেই।
আরও পড়ুন:
সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এমন পদ্ধতি নির্ধারণ করেনি যেটার মাধ্যমে নির্বাচনি ব্যয়ে লাগাম টানা যেতো এবং পরবর্তী নির্বাচনি ব্যয়ের ব্যাপারে তারা অনুসরণ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতো। এটা বহুলাংশে নির্বাচন কমিশন দায়ী আমি মনে করি।
এ নিয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ জানান, আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগকে গুরুতর মনে করলে কমিশন নিজ থেকেই তদন্তের ব্যবস্থা করবে। অন্যথায় সংক্ষুব্ধরা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর অভিযোগ জানাতে পারে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ বলেন, ‘যে সমস্ত ঘটনা ঘটছে বা ঘটনা আরও যদি ঘটে তার জন্য বিচার বিভাগীয় যে কমিটি আছে সেখানে যারা ক্ষতিগ্রস্ত মনে করে তারা গিয়ে অভিযোগ করবেন। জেলা অফিসেও জানাতে পারে, উপজেলা অফিস বা রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসেও জানাতে পারে।
প্রচারণায় মাইক সংখ্যা ৩ টি থেকে শিথিলতা আনাসহ আচরণবিধিতে শীঘ্রই কয়েকটি পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।
ইসি মাসউদ বলেন, ‘আচরণবিধিতে কিছু পরিবর্তনের বিষয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা আছে এবং সেটা চলে গেছেও। বাইকের যে সংখ্যা ছিলো সেটাও তুলে ফেলেছি। তবে রাত ৮টার পর যেন না হয় সেটা বড় কথা।
কোনো প্রার্থী তথ্য গোপন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও তার সদস্য পদ বাতিল হবে। এর আগেও যেকোনো সময়েই অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নিবে নির্বাচন কমিশন।





