যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্থিরতার মধ্যে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন বাণিজ্য চুক্তি

ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য চুক্তি
ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য চুক্তি | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে অস্থিরতার মধ্যেই ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি সই করলো ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন। নয়া দিল্লির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মুক্তবাণিজ্য চুক্তি এই ‘মাদার অব অল ডিলস’, জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রায় দুই দশকের বিচ্ছিন্ন আলোচনার পর এ চুক্তির ফলে, ভারতের বিশাল ও উচ্চ সুরক্ষিত বাজারে ঢুকতে পারবে ইইউ। সহজ প্রবেশাধিকার পাবে ভোক্সওয়াগন, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, রেনল্ট, বিএমডব্লিউর মতো ইউরোপীয় সব ব্র্যান্ড।

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের পর বিক্রির দিক থেকে বিশ্বে সবচেয়ে বড় গাড়ির বাজার ভারতের। একইসঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ অটোমোবাইল শিল্প বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত খাত। বহির্বিশ্ব থেকে গাড়ি আমদানি অনুৎসাহিত করতে ৭০ ও ১১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে থাকে ভারত সরকার।

সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য, দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে নয়া দিল্লি। ১১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শুল্ক নামিয়ে আনা হতে পারে ৪০ শতাংশে। বলা হচ্ছে, ২৭ সদস্য দেশের জোট ইইউ থেকে সীমিত সংখ্যক যানবাহন আমদানিতে তাৎক্ষণিক কর কমাতে সম্মত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। ১৫ হাজার ইউরোর বেশি মূল্যের আমদানিকৃত গাড়ির ওপর কার্যকর হবে নয়া দিল্লির নতুন শুল্ক নীতি।

দুই পক্ষের অটোমোবাইল খাত নিয়ে বিস্তারিত না জানালেও, মঙ্গলবার ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে ইইউ। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ২৭ সদস্য রাষ্ট্রের জোট ইইউ।

আরও পড়ুন:

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কাজা কালাস বলেন, ‘নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে স্বাক্ষর সত্যিই একটি মাইলফলক এবং এর ওপর দাঁড়িয়ে অনেককিছু করা সম্ভব। বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি। আবার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও উন্নত করতে দ্বিপাক্ষিকভাবেও কাজ করতে পারি।’

২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত এক অর্থবছরে ভারত ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার। দু’পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই দশকের বিচ্ছিন্ন আলোচনার পর এ চুক্তির ফলে এবার ভারতের বিশাল ও উচ্চ সুরক্ষিত বাজারে ঢুকতে পারবে ইইউ। ফলে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মুক্তবাণিজ্য চুক্তি এটি, জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চুক্তিটিকে অভিহিত করা হচ্ছে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বা সকল চুক্তির জননী হিসেবে।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘গতকালই, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সই করেছে। সারা বিশ্বে এটি নিয়ে আলোচনা চলছে “মাদার অব অল ডিলস” হিসেবে। এই চুক্তি ১৪০ কোটি ভারতীয় এবং ইউরোপের লাখ লাখ মানুষের জন্য অসংখ্য সুযোগ নিয়ে আসবে। ইইউর সঙ্গে এ বাণিজ্য চুক্তির ফলে উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং পরিষেবা খাতের প্রসার ঘটবে। মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ভারতে প্রত্যেক বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীর আস্থা বাড়াবে।’

আরও পড়ুন:

এর আগে রয়টার্সের সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তির ফলে ভারতের বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার পাবে ভোক্সওয়াগন, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, রেনল্ট, বিএমডব্লিউ'র মতো ইউরোপের বিলাসবহুল অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে আধিপত্য করা মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা ও টাটা মোটর্সের বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখতে, প্রথম পাঁচ বছর আমদানি শুল্ক হ্রাসের আওতাভুক্ত হবে না ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি।

ভারতে বর্তমান গাড়ির বাজার বার্ষিক ৪৪ লাখ ইউনিটের, যার দুই-তৃতীয়াংশই যৌথভাবে অভ্যন্তরীণ ব্র্যান্ড মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা ও টাটা মোটর্সের দখলে। এরপরই আধিপত্য জাপানের সুজুকি মোটর্সের। চার শতাংশেরও কম অংশে নিয়ন্ত্রণ ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতাদের।

বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে অস্থিরতার মধ্যে বাণিজ্য নিরাপত্তা গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই ভারত ও ইইউ'র এ চুক্তি। এর মাধ্যমে বস্ত্র ও অলঙ্কার শিল্পেও রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে ভারতের। গেলো বছর আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষত বহন করছে ভারতের এ দু’টি খাত।

ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক যুদ্ধের প্রেক্ষিতে, সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলার জোট মাকাসুরের সাথে এবং গত বছর ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো ও সুইজারল্যান্ডের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তিতে সই করে ইইউ। একই সময়ে যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড ও ওমানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় ভারত।

এসএস