জানুয়ারি মাসজুড়ে শীতকালীন ঝড়ের কারণে বিপর্যের মুখে ইউরোপের বাসিন্দারা। হাঙ্গেরিতে চলতি মাসের তাপমাত্রা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এরই মধ্যে দেশটিতে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হাঙ্গেরির বালাটন হ্রদ মধ্য ইউরোপের বৃহত্তম মিঠা পানির হ্রদের একটি। তীব্র ঠান্ডা ও তুষারপাতে জমে গেছে হ্রদটি, বরফ ছেয়ে গেছে সম্পূর্ণ হ্রদ।
গত এক দশকে প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা ঘটলো। এ হ্রদের ওপর বরফের পুরত্ব প্রায় ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত। এরই মধ্য দিয়ে চলছে ফেরি, বাসিন্দারা ভিড় করছেন বিরল শীতকালীন দৃশ্য দেখার জন্য।
তবে হাঙ্গেরির বাসিন্দাদের কাছে বরফ জমা এ হ্রদ হয়ে উঠেছে বিনোদনের মাধ্যম। বরফ আচ্ছাদিত এ বালাটন হ্রদ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ হ্রদের ওপরই করছেন স্কেটিং। সম্ভাব্য ফাটল এবং তুষারাবৃত দুর্বল স্থানগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা এখানে স্কেটিং করতে এসেছি। অনেকে এ হ্রদের মধ্যে স্কেটিং করতে ভয় পাচ্ছে। কারণ বরফের স্তরের নিচেই পানি। সবাই ঘুরে বেড়াচ্ছে।’
আরেকজন বলেন, ‘বিশাল হ্রদ, তার ওপর দিয়ে আমরা হেটে বেড়াচ্ছি এবং স্কেটিং করছি। বরফ ভাঙার জন্য ভয়ও লাগছে।’
এদিকে, জার্মানিতে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় শীতকালীন ঝড়। ভারী তুষারপাত, হিমশীতল বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত দেশটির পরিবহন ব্যবস্থা। বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বাতিল হয়েছে বহু ফ্লাইট। মহাসড়কগুলোতে বরফ জমেছে কয়েক ফুট উচ্চতার। পিচ্ছিল অবস্থায় যানবাহন চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, তারা বরফ পরিষ্কার করছেন। কেননা তারা গাড়ি পার্ক করতে পারছেন না, এমনকি প্রয়োজনে ঘর থেকেও বের হতে পারছেন না। বরফ সরিয়ে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করে তুলতে প্রধান সড়কগুলোতে পরিষ্কারের এমন অভিযানে অংশ নিয়েছেন অনেকেই।





