ঢাকা থেকে বিপিএলের ট্রফি নিয়ে শান্ত-মুশফিকরা তখনো আকাশে। তার আগেই রাজশাহীর হজতর শাহ-মখদুম বিমানবন্দরজুড়ে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। ফেষ্টুন, পতাকা, ভুভুজেলা আর ফুলের তোড়াসহ বিভিন্ন সাজসজ্জার কমতি নেই একেবারেই। বিমান রাজশাহীর মাটি ছু্ঁতেই বিমানবন্দরের গেটে প্রস্তুত ছাদখোলা বাস। শান্ত, মুশফিক, তানজিদ তামিম, রিপন মন্ডলরা উঠলেন ছাদখোলা বাসে।
‘কাপ আইসেছে বাড়িতে’ লেখা বাসের ছাদে ট্রফি উচিয়ে ধরতেই বিমানবন্দর সড়কে হৃদয় জুড়ানো মুগ্ধতায় ক্রিকেট প্রেমীরা বরণ করেছেন নিজেদের চ্যম্পিয়ন দল ওরিয়ার্সকে।
ধীর গতিতে চলে ছাদখোলা বাস নগরীর আম চত্ত্বর, বিমন সড়ক, ভদ্রা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, আলুপট্টি, লক্ষীপুরসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা প্রদর্শন করে।
এসময় তাদের আগমনে কেউ ফুল ছিটিয়েছেন, কেউ ব্যস্ত থেকেছেন অটোগ্রাফ আর ছবি তুলতে। এ মাহেন্দ্রক্ষণে তাই নগরবাসীর উচ্ছ্বাস ছিল বাঁধনহারা। বাড়িতে এসেছে কাপ, তাই এ উচ্ছ্বাসে যোগ হয় শান্ত, মুশফিকদের পাড়ায় পাড়ায় থাকা শত শত ভক্ত।
পুরো রোড-শোতে ক্রিকেটাররা আগলে রাখেন ট্রফি, যেন সাত রাজার ধন। তাইতো নগরবাসীর দাবিতে মাঝে মাঝে তা উচিয়ে ধরেছেন শান্ত মুশফিকরা। পথের পর পথ গাড়ির পেছনে ছুটেছেন দর্শকরা।
এয়ারপোর্ট থেকে নগর ভ্রমন সব ক্লান্তি একেবারেই নস্যি। প্রিয় খেলোয়াড়কে দেখতে রাস্তার পাশে ভিড় করেন হাজার হাজার দর্শক। রাজশাহীর ইতিহাসের স্মরণীয় মুহূর্তকে করেন ফ্রেমবন্দি।
দর্শকরা জানান, বিপিএল জয় করে ওয়ারিয়র্সরা রাজশাহীতে আসায় বেশ উচ্ছ্বসিত তারা। এজন্য খেলোয়াড়দের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে এখানে এসেছেন তারা।
প্রথমবার বিপিএলে এসেই রাজশাহী ওয়ারিয়র্স জয় করলেন শিরোপা। এতে নগরবাসীর এমন ভালোবাসায় মুগ্ধ ক্যাপ্টেন শান্ত। তিনি বলেছেন, এ জয় রাজশাহীর ক্রিকেটকে উজ্জীবিত করবে।
আরও পড়ুন:
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক শান্ত বলেন, ‘এখানে অনেক তরুণ ক্রিকেটার আছেন, যারা বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখেন, বিপিএল খেলার স্বপ্ন দেখেন। তো আমি মনে করি এ জয়টা তাদেরকে অনেক হেল্প করবে।’
তিনি বলেন, ‘কাছের মাঠ বা যে ফ্যাসিলিটিজ আছে, ক্রিকেট বোর্ড বা রাজশাহীতে যারা দায়িত্বে আছেন, তারা এ জিনিসগুলো যদি ঠিকভাবে উন্নত করেন, তাহলে আমার মনে হয় বিপিএল বা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলো রাজশাহীতে ধীরে ধীরে আসবে।’
এদিকে বিপিএলের আসর দিন দিন বড় হলেও মাঠে গিয়ে খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত রাজশাহী বিভাগের দর্শকরা। তাইতো মিস্টার ডিপেন্ডেবলের প্রত্যাশা রাজশাহীতে আয়োজন হোক এ টুর্নামেন্ট।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বলেন, ‘রাজশাহী ও বগুড়া দুই মাঠেই বিপিএল হওয়া উচিত। বিপিএল হওয়ার জন্য যা কিছু করা দরকার, ইনশাআল্লাহ আমি আশা করছি, এখনো এক বছর আছে, বিসিবি সেদিকটা দেখবে। পরবর্তীতে রাজশাহী এবং বগুড়ায় যদি খেলা হয়, তাহলে আরও দর্শক বাড়বে।’
ওয়ারিয়র্সের মালিকপক্ষ বলছে ক্রিকেটের উন্নয়নে তাদের এ অংশগ্রহণ সামনে আরও বাড়াবেন তারা।
নাবিল গ্রুপের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা সৈয়দ শহীদুল আলম বলেন, ‘নতুন উদীয়মান ক্রিকেটার আছে, তারাও এই জয়ে উৎসাহী হবে। এছাড়া নতুন যারা ক্রিকেট খেলতে চায়, তারাও উৎসাহী হবে।’
বিপিএল ট্রফি নিয়ে এ রোড-শো সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নগরজুড়ে চলেছে ৫ ঘণ্টাব্যাপী। ক্রিকেটপ্রেমীদের বাঁধ ভাঙ্গা এ উচ্ছ্বাসকে ক্রিকেটের শক্তিতে রূপান্তরে দর্শকদের চাওয়া রাজশাহীর মাঠে বিপিএলসহ আন্তর্জাতিক ম্যাছের নিয়মিত আয়োজন।





