আবহাওয়াবিদদের মতে, এবারের ঝড়টি অনন্য এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক। একদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলছে তীব্র তুষারপাত, অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে শুরু হয়েছে ভয়াবহ বরফ বৃষ্টি। তুষারপাতের দিক থেকে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ডেভিসে, প্রায় ১৬ দশমিক ৬ ইঞ্চি। এছাড়া পেনসিলভানিয়ার পিটসবুর্গে গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৮ ইঞ্চি তুষারপাত হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কে তুষারপাতের পরিমাণ ৮.৮ ইঞ্চি ছাড়িয়েছে। তীব্র তুষারপাতের কারণে লা-গার্ডিয়া, জেএফকে এবং নেওয়ার্ক বিমানবন্দরে তুষারপাতের নতুন দৈনিক রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সোমবার নাগাদ নিউইয়র্কের কোনো কোনো এলাকায় ১৫ থেকে ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষার জমতে পারে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটঅ্যাওয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩২ হাজার ২০০-এর বেশি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এমনকি নিউইয়র্কের লা-গার্ডিয়াসহ ২৮টি বিমানবন্দর রোববার সব ধরণের যান চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সাবওয়ে এবং ফেরি চলাচলও সীমিত বা স্থগিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন এই দুর্যোগের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১০টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ১০ লাখ ৪৫ হাজার গ্রাহক বর্তমানে পুরোপুরি বিদ্যুৎহীন। বিশেষ করে টেনেসি, মিসিসিপি এবং লুইজিয়ানায় পরিস্থিতি সবচেয়ে শোচনীয়। মিসিসিপির অক্সফোর্ড শহরে ১ ইঞ্চি পুরু বরফের স্তর জমেছে বৈদ্যুতিক তার ও গাছের ওপর, যার ভার সইতে না পেরে মুহুর্মুহু ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ ও গাছ উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। জর্জিয়া ও সাউথ ক্যারোলিনাতেও নতুন করে বরফ বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
তীব্র বৈরী আবহাওয়ার কারণে সোমবার ট্রাই-স্টেট এলাকা (নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি ও কানেকটিকাট) সহ ওহাইও, কেনটাকি ও টেক্সাসের অধিকাংশ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাসও বাতিল করে পূর্ণাঙ্গ ছুটি দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরিও সোমবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দুর্গতদের সহায়তায় নিউ ইয়র্ক প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫টি বরোতে ওয়ার্মিং সেন্টার বা উষ্ণতা কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানি নিজে ব্রুকলিনের রাস্তায় নেমে তুষার পরিষ্কারের কাজে অংশ নিয়েছেন। তবে আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে যে, তুষারপাত থামলেও হিমাঙ্কের নিচের এই কনকনে ঠাণ্ডা আরও বেশ কয়েকদিন স্থায়ী হবে যা উদ্ধারকাজ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।





