কানাডার অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে সরকারের কঠোর সীমান্ত নীতি, ভিসা কড়াকড়ি আর আশ্রয়ের আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দেয়া। এছাড়া ‘সেফ থার্ড কান্ট্রি এগ্রিমেন্ট’-এর সম্প্রসারণ এবং মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য পুনরায় ভিসা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে রোধ হয়েছে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার।
কানাডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব রিফিউজি ল’এয়ারের প্রেসিডেন্ট এসলিং বন্ডি বলেন, ‘সরকার আগের চেয়ে কঠোর হয়েছে। বেশ কিছু বিল এনেছে; যা কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে অনেক মানুষই স্থায়ীভাবে শরণার্থী আবেদনের জন্য অযোগ্য গণ্য হয়েছেন।’
আরও একটি ইতিবাচক খবর হলো; যাদের আশ্রয়ের আবেদন এর মধ্যে অনুমোদিত হয়েছে- তারা ‘প্রোটেকটেড পারসন’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংরক্ষিত ব্যক্তিদের স্থায়ী আবাসনের আবেদন বা পিআর প্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে আনা হয়েছে মাত্র ১৭ মাসে। আগে এ প্রক্রিয়ায় কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতো।
আরও পড়ুন:
এখনো শুনানির অপেক্ষায় প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশির আবেদন। যারা বিভিন্ন সময় কানাডায় এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন।
কানাডা সরকার ২০২৬ সালের জন্য প্রায় ৬৫ হাজার সংরক্ষিত ব্যক্তিকে পিআর দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে- যা শরণার্থীদের দ্রুত স্থিতিশীল জীবনে ফেরাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর হলো- চলতি ২০২৬ সাল পর্যন্ত পিজিডব্লিউপি বা পোস্ট-গ্রাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না।
কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আশ্রয় আবেদন কমানো এবং একইসঙ্গে স্বীকৃত শরণার্থীদের দ্রুত পিআর দেয়ার উদ্যোগ- এ দুই নীতির মাধ্যমে কানাডা তার অভিবাসন ব্যবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।





