বিশ্বব্যাপী মোট পেঙ্গুইনের তিন ভাগের দুই ভাগের বসবাস অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলে। বর্তমানে ১৮ প্রজাতির পেঙ্গুইন রয়েছে। এদের মধ্যে বিশাল আকৃতির জন্য বিখ্যাত এম্পেরর বা সম্রাট পেঙ্গুইন। ১০০ সেন্টিমিটার লম্বা পেঙ্গুইনের ওজন হয়ে থাকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক বছর ধরেই হুমকির মুখে পেঙ্গুইনের নানা প্রজাতি। বরফ গলে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে পেঙ্গুইনদের আবাসন ও খাদ্য সংকট।
গবেষকরা বলছেন অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ গড় তাপমাত্রার চেয়ে প্রতি বছর প্রায় চারগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে পেঙ্গুইনদের প্রজনন অঞ্চল। জীবনের বেশিরভাগ সময় সমুদ্রে কাটালেও প্রজনন ও ডিম ফুটানোর জন্য তাদের ডাঙ্গায় উঠে আসতে হয়।
অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল দ্রুত উষ্ণ হওয়ায় পেঙ্গুইনদের প্রজনন সময় বদলে গেছে। ৭৭টি ক্যামেরা দিয়ে ৩৭টি স্থানে ১০ বছর ধরে একটি গবেষণা চালিয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পেঙ্গুইন ওয়াচ।
যেখানে উঠে এসেছে, প্রতি দশকে গড়ে ১৩ থেকে ২৪ দিন এগিয়েছে পেঙ্গুইনদের প্রজনন সময়। গবেষকদের মতে, এটি যেকোনো পাখি ও মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে রেকর্ড পরিবর্তন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. ইগনাসিও জুয়ারেজ মার্টিনেজ বলেন, ‘অ্যান্টার্কটিকায় গবেষণা চালানোর লক্ষ্য ছিল জলবায়ু পরিবর্তনে পেঙ্গুইনদের প্রজনন সময় পরিবর্তন হয় কিনা। তবে ফলে দেখা গেছে তাদের প্রজনন সময় রেকর্ড গতিতে পরিবর্তন হয়েছে। যা অন্য যেকোনো মেরুদণ্ডী প্রাণীর চেয়ে দ্রুত। বেশ কয়েকটি প্রজাতির মধ্যেই এটি দেখা গেছে।’
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, আগেভাগে প্রজনন কোনো সাধারণ প্রতিক্রিয়া নয়। পেঙ্গুইনদের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে আবাসস্থল ও খাদ্য সংকট নিয়ে প্রতিযোগিতা দেখা গেছে।
ড. ইগনাসিও জুয়ারেজ মার্টিনেজ বলেন, ‘পেঙ্গুইনরা খাদ্য সংগ্রহের জন্য দলবেঁধে একসঙ্গে চলাফেরা করছে না । যা তাদের প্রজনন সাফল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতি বছর তারা কতগুলো পেঙ্গুইন পালন করতে পারবে তার ওপর নির্ভর করছে। পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে প্রজনন সফলতা প্রভাবিত হচ্ছে।’
তবে এখনো সবচেয়ে বড় অজানা বিষয় হল, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে পেঙ্গুইনরা কার্যকরভাবে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে কিনা।





