সম্প্রতি এক বক্তব্যে ট্রাম্প জাতিসংঘের বর্তমান কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংস্থাটি বিশ্বশান্তি রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। ট্রাম্পের এই অবস্থানকে বিশ্লেষকরা বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে এই বোর্ডের স্থায়ী সদস্য হতে ট্রাম্প প্রতিটি দেশের কাছে ১ বিলিয়ন ডলার ফি দাবি করেছেন এবং নিজেকে আজীবন চেয়ারম্যান হিসেবে প্রস্তাব করেছেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন মেরূকরণ তৈরি করেছে।
জাতিসংঘ অবশ্য এই নতুন উদ্যোগকে এখনই কোনো সরাসরি প্রতিযোগী বা বিকল্প কাঠামো হিসেবে দেখছে না। সংস্থাটির মুখপাত্র ফারহান হক গতকাল (বুধবার, ২১ জানুয়ারি) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, জাতিসংঘের ৮০ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন, প্রতিরক্ষা জোট ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সহাবস্থান ছিল। বোর্ড অব পিস শেষ পর্যন্ত কী রূপ নেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন:
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বর্তমানে কেবল গাজা সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্যই বোর্ড অব পিসকে সমর্থন দিয়েছে এবং ওই নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের সীমার মধ্যেই জাতিসংঘ তাদের সাথে সমন্বয় করছে। গাজা পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার বাইরে এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ পরিধি কতটুকু বিস্তৃত হবে, তা সময় নির্ধারণ করবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এদিকে, বোর্ড অব পিসে ইতোমধ্যে ইসরায়েল, তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও হাঙ্গেরিসহ প্রায় ২৫টি দেশের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও জাতিসংঘ বলছে তারা এ নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নয়। বিপরীতে ফ্রান্স, নরওয়ে ও সুইডেনের মতো দেশগুলো এই উদ্যোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘের প্রতি তাদের অবিচল সমর্থন জানিয়েছে। ভারত ও চীনের মতো শক্তিগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। জাতিসংঘ তাদের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে যে, সংস্থাটি তাদের নিজস্ব সনদ, আন্তর্জাতিক আইন এবং নির্ধারিত ম্যান্ডেট অনুযায়ী বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা ও মানবিক সুরক্ষার কাজ নিজস্ব গতিতেই চালিয়ে যাবে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল প্রশ্নটি এখন অন্য জায়গায়, বোর্ড অব পিস কি শেষ পর্যন্ত একটি সহযোগিতামূলক কাঠামো হিসেবে গড়ে উঠবে, নাকি বৈশ্বিক রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে নতুন কোনো বিভাজন ও বিকল্প শক্তি বলয় তৈরি করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।





