গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনে থাকা একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। তবে এর ভৌগোলিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কৌশলগতভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ। গোল্ডেন ডোম থেকে শুরু করে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর অংশ হিসেবেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দরকার। আর এই দাবি ঘিরেই তৈরি হয়েছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা।
ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোকে চাপ দিচ্ছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলে তারা যেন ডেনমার্কের পাশে না দাঁড়ায়। ইউরোপ যদি বাধা দেয়, তাহলে তাদের রপ্তানি পণ্যের ওপর বড় অঙ্কের শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। এতে ইউরোপীয় দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এবার প্রকাশ্যে এই হুমকির বিরোধিতা করছেন।
আরও পড়ুন:
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশ্লেষণ বলছে, ইউরোপীয়দের উদ্বেগ, এবারের বিষয়টি শুধু বাণিজ্যের নয়, একটি ন্যাটো সদস্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি ভাবনায় রাখছে। মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ বা ইউরোপের বাজারে মার্কিন কোম্পানির সুযোগ কমানোর মতো পদক্ষেপও আছে আলোচনায়।
তবে ইউরোপ পুরোপুরি কঠোর হতে পারছে না। কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ, ন্যাটোর নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে তারা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এই কারণে ইউরোপ একদিকে শক্ত বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সংঘাত এড়াতে আলোচনার দরজাও খোলা রাখছে।
বিবিসি বলছে, এই পরিস্থিতি পশ্চিমা জোটের ঐক্যকে দুর্বল করছে, যা উৎসাহ দিচ্ছে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলোকে। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে এই বিরোধ, বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট অনেকটা বদলে দেবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক আগের মতো আর সহজ থাকবে না।




