গ্রিনল্যান্ডের পর চাগোস আইল্যান্ডসেও উত্তেজনা, ট্রাম্প ক্ষুব্ধ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

গ্রিনল্যান্ডের পর এবার বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে, চাগোস আইল্যান্ডস। দীর্ঘ শাসনের পর মরিশাসকে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে চাওয়ায় যুক্তরাজ্যের ওপর চটেছেন ট্রাম্প। চাগোস নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনে বিস্মিত ডাউনিং স্ট্রিট। কয়েক দশক ধরে চাগোসের দিয়েগো গার্সিয়ায় যৌথ সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করছে ব্রিটিশ ও মার্কিন সরকার।

ভারত মহাসাগরে ব্রিটিশ অধিকৃত চাগোস আইল্যান্ডস। ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ উপনিবেশ এই দ্বীপপুঞ্জ, মার্কিন-ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের লক্ষ্যে ১৯৬৫ সালে পূর্ব আফ্রিকার দেশ মরিশাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়। ২০২৫ সালের এক চুক্তির অধীনে দ্বীপটি মরিশাসকে ফিরিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাজ্য।

আর্কটিক দ্বীপাঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের পর এবার বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে এই চাগোস আইল্যান্ডস। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে চাওয়ার নেপথ্যে অন্যতম কারণ মরিশাসের কাছে চাগোস ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্ত, এমনটাই দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

সোমবার (১৯, জানুয়ারি) রাতভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টের বন্যা বইয়ে দেন ট্রাম্প। লেখেন, কোনো কারণ ছাড়াই চাগোসের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপ মরিশাসকে দান করে দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। দিয়েগো গার্সিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অবস্থান বলে, এ পদক্ষেপকে দুর্বলতা হিসেবে নিচ্ছে চীন-রাশিয়া। মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর মিত্র ডেনমার্কের অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডও এ কারণেই ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে থাকা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আরও পড়ুন:

গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়ে যুক্তরাজ্য চরম নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। চাগোস নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আকস্মিক-এ অবস্থানে বিস্মিত ডাউনিং স্ট্রিট। কারণ গেলো বছর চাগোস হস্তান্তরের চুক্তিকে স্বাগত জানান খোদ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সমর্থন ছিল কানাডা-অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের।

চাগোস হস্তান্তরে ৩৪০ কোটি পাউন্ডের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ব্রিটিশ সরকার। চুক্তি অনুযায়ী, চাগোসের নিয়ন্ত্রণ মরিশাসের হাতে ছেড়ে দিলেও ব্রিটিশ-মার্কিন যৌথ সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা অব্যাহত রাখতে ৯৯ বছরের জন্য দ্বীপপুঞ্জটির সবচেয়ে বড় দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়া ইজারা নেয়া হবে। এতে বছরে ব্রিটিশ সরকারের খরচ পড়বে ১০ কোটি পাউন্ডের বেশি অর্থ।

এরপরও চাগোস ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনে বিব্রত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও তার সরকার। যদিও যুক্তরাজ্যের রক্ষণশীল আইনপ্রণেতারাও স্টারমার সরকারের এ পদক্ষেপের ঘোর বিরোধী।

এএম