আজ (সোমবার, ১৯ জানুয়ারি) ভোর রাত পৌনে ৫টায় ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন মুন্সিবাজার এলাকায় অবস্থিত ইউনাইটেড ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় পাম্পটিতে ম্যানেজারসহ চারজন কর্মচারী অবস্থান করছিল। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা ছুটে যান এবং পুলিশ, র্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে মহাসড়ক থেকে দৌড়ে পেট্রোল পাম্পের ভেতরে ১১ জন প্রবেশ করে। তাদের হাতে দেশিয় অস্ত্র রামদা, কাটার ও লাল রঙয়ের বালতিভরা ককটেল সদৃশ বস্তু দেখা যায়। প্রথমে তারা পাম্পের সামনে অবস্থান করা দুই কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং ভেতরে নিয়ে মারধর করা হয়।
এক পর্যায়ে ডাকাতদল ক্যাশকক্ষে প্রবেশ করে এবং ক্যাশবাক্স ভেঙে নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়। ডাকাতদল পাঁচ মিনিটের মধ্যেই এসব প্রক্রিয়া শেষ করে ৪টা ৪৫ মিনিটে পুনরায় মহাসড়কের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তবে তাদের ব্যবহৃত কোনো গাড়ি দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন:
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পাম্পের কর্মচারী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘রাতে আমরা বসে টিভি দেখছিলাম, হঠাৎ করে ১১ জন লোক দৌড়ে আসে। এসেই আমার কলার ধরে এবং আমাদের দুইজনকে মুখ আটকিয়ে ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর ক্যাশিয়ারকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং ক্যাশবাক্স ভেঙে টাকা-পয়সা নিয়ে যায়।’
তার ভাষ্যমতে, অসুস্থ থাকায় তাকে মারধর না করলেও অপর সহকর্মী ও ক্যাশিয়ারকে চড়থাপ্পর ও মারধর করা হয়।
পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘রোববার দিবাগত রাত ৪টার দিকে ধারালো অস্ত্রসহ ১১ জন ডাকাত পাম্পের দক্ষিণ দিক থেকে এসে হানা দেয়। এসময় দায়িত্বে থাকা পাম্পের নজেলম্যান ও মিটারম্যানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। ডাকাতরা ক্যাশ রুমের চাবি চাইলে তারা না দেয়ায় ওই দুই জনকে মারপিট করে। পরে ক্যাশ রুমের তালা কেটে ডাকাতদল এক লাখ ৯৮ হাজার লাখ টাকা, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, সিসি ক্যামেরার মেশিন নিয়ে নেয়। এসময় একটি মনিটর ভাঙচুর করে ডাকাতরা। ডাকাতি শেষে একই দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
বিষয়টি নিয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।





