অস্ত্রের বাজারে নতুন খেলোয়াড় পাকিস্তান!

পাকিস্তানের তৈরি যুদ্ধবিমান
পাকিস্তানের তৈরি যুদ্ধবিমান | ছবি: সংগৃহীত
2

সামরিক চুক্তি থেকে যুদ্ধ সরঞ্জাম বিক্রি- আরব বিশ্বে নিজেদের সক্ষমতার জানান দিতে কৌশলী হচ্ছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের চাহিদা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অস্ত্র নির্মাতাদের সঙ্গে পাল্লা দিতে চায় ইসলামাবাদ। আল জাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, এ পরিকল্পনায় বাধা হতে পারে আরব রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে আরব রাষ্ট্রের সামরিক চুক্তি আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও বৈচিত্র্যময় করবে।

সুদান-পাকিস্তান সামরিক চুক্তি

সুদানের সেনাবাহিনীর কাছে দেড় বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করবে পাকিস্তান। চলতি মাসে এমন খবর প্রকাশ করে রয়টার্স। সামরিক চুক্তি বিবেচনায় এটি কোনো মেগা ডিল না হলেও আল জাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, আরব রাষ্ট্রগুলোতে নিজস্ব প্রযুক্তির সমরাস্ত্র ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা আছে ইসলামাবাদের।

এর আগে, গেল সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি করে পাকিস্তান। চুক্তির কয়েক সপ্তাহ আগে কাতারে বোমা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ ইসরাইল। প্রশ্নের মুখে পড়ে গালফ রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।

আরও পড়ুন:

সৌদি আরব-পাকিস্তান সামরিক চুক্তি

বিশ্লেষকরা বলছেন, গেল কয়েক বছরে এশিয়া ও আফ্রিকায় যুদ্ধ বিমান বিক্রি করলেও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নিজেদের ফুটপ্রিন্ট রাখতে তেমন গরজ দেখায়নি পাকিস্তান। কিন্তু সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি করে নতুন এক প্রতিরক্ষা বলয় তৈরির পথে পাকিস্তান। প্রশ্ন ওঠে, সামরিক চুক্তি ও সরঞ্জাম বিক্রি করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কী পারবে আরব বিশ্বে নিজেদের সক্ষমতার জানান দিতে?

জেএফ ১৭ যুদ্ধবিমানের চাহিদা

কৌশলগত চুক্তির পর পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহীদের তালিকায় যোগ হয় সৌদি আরবের নাম। পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ আছে ইরাকের। অত্যাধুনিক এ জেট বিমানের ৫৮ শতাংশ বানানো হয় পাকিস্তানে। বাকি ৪২ শতাংশ বানায় চীন। পাকিস্তানে তৈরি জেএফ-১৭ ব্যবহার করে আজারবাইজান, নাইজেরিয়া ও মিয়ানমার।

আরও পড়ুন:

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গেল মে মাসে পেহেলগাম কাণ্ডের জেরে ভারত-পাকিস্তানের চার দিনের সংঘাতে ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলোকে কুপোকাত করতে জেএফ-১৭ ও যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬ ব্যবহার করে পাক সেনারা। এরপরই যুদ্ধক্ষেত্রে সফল জেএফ-১৭ কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে ভিনদেশীরা।

অস্ত্র বিক্রির জটিলতা

সৌদি সমর্থিত সুদান সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে গেলে পথের কাঁটা হতে পারে আরব আমিরাত। সুদানের বিদ্রোহী আরএসএফ কে অর্থ সহায়তা দেয় আমিরাত- এমন অভিযোগ আছে নানা মহলে। ইয়েমেন ইস্যুতেও সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ অবস্থান আরব আমিরাত ও সৌদি সরকারের। ফলে আরব বিশ্বে নিজেদের ফুটপ্রিন্ট রাখার পথটা সহজ হবে না পাকিস্তানের জন্য।

সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিতে পাকিস্তান

আরও পড়ুন:

বিশ্বের অন্যতম সামরিক সরঞ্জাম আমদানিকারক দেশও পাকিস্তান। যার অধিকাংশই আসে চীন থেকে। তবে বছরে গড়ে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলারের যুদ্ধাস্ত্র রপ্তানি করে দেশটি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে গেল ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি করেছে তারা, ২০২১-২২ অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল মাত্র ১৩ মিলিয়ন। আর এখানে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের অবদান সবচেয়ে বেশি বলে জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

কেট্রেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আজারবাইজানের সঙ্গে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের ১.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি ছাড়াও সৌদি আরব, লিবিয়া ও সুদানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে সম্ভাব্য ১৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের পথে আছে পাকিস্তান। এতে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ প্রায় ৮২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে চীন-যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিয়ে আরব বিশ্বে পাকিস্তান নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়ার প্রক্রিয়ায় কতটা সফল হবে- সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

এসএস