যুদ্ধবিরতির পরও আলেপ্পোতে সংঘর্ষ, ঘরছাড়া ১ লাখ ৬২ হাজার

ঘরছাড়া বেসামরিক নাগরিক
ঘরছাড়া বেসামরিক নাগরিক | ছবি: সংগৃহীত
0

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আবারও সংঘাতে উত্তাল সিরিয়া। আলেপ্পো থেকে যোদ্ধাদের সরিয়ে না নেয়ায় কুর্দি সমর্থিত এসডিএফের ওপর চড়াও হয়েছে সিরীয় সেনাবাহিনী। সহিংসতা থেকে বাঁচতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার বেসামরিক নাগরিক। এদিকে, মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত সিরিয়ায় চলতি বছর ৭২২ মিলিয়ন ডলার অনুদান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

থেমে থেমে গুলির শব্দ, বাতাসে বারুদের গন্ধ, আগুনে পুড়তে থাকা শহর, হাসপাতালে রোগীর ভিড় আর স্বজনের আহাজারি- রক্তক্ষয়ী সংঘাত যেন পিছু ছাড়ছে না আলেপ্পোবাসীর।

গেল মঙ্গলবার আলেপ্পোর দু'টি শহরে কুর্দি সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স, এসডিএফের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়ায় সিরীয় সেনাবাহিনী। টানা ৩ দিন ভয়াবহ যুদ্ধের পর শুক্রবার (৯, জানুয়ারি) যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। শর্ত ছিল, আলেপ্পোর ৩টি বিশেষ এলাকা থেকে সরে যেতে হবে কুর্দি যোদ্ধাদের।

কিন্তু নিজেদের দখলকৃত অঞ্চল রক্ষার প্রশ্নে আলেপ্পো ছাড়তে রাজি নয় কুর্দি সমর্থিত যোদ্ধারা। শহরটি থেকে একের পর এক ফাঁকা বাস ফিরতে শুরু করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কুর্দি যোদ্ধাদের ওপর চড়াও হয় সিরীয় সেনাবাহিনী। কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ আশরাফিয়াহ ও শেখ মাকসুদ এলাকায় দফায় দফায় অভিযান শুরু হয়। নিয়ন্ত্রণে নেয় সংঘাতের এপিসেন্টার খ্যাত আলেপ্পোর ৫৫ শতাংশ এলাকার দখল। সেইসঙ্গে এসডিএফের বেশ কয়েকজন সশস্ত্র যোদ্ধাকে আটক করে আল শারার সেনাবাহিনী।

আরও পড়ুন:

এসডিএফ আর সিরীয় সেনাদের এই ঘাত প্রতিঘাতের কবলে পড়েন উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। রয়টার্সের ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যায় হুইল চেয়ারে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে শহর ছাড়ছেন সিরীয় যুবক। বাবার হাত ধরে অজানার উদ্দেশে চলছে মেয়ে। প্রায় প্রতিটি শিশুর হাতেই ভারি ব্যাগ। আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে, গেল ৪ দিনে আলেপ্পো ছেড়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ।

এমন প্রেক্ষাপটে মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত সিরিয়ায় চলতি বছর ৭২২ মিলিয়ন ডলার অনুদান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যুদ্ধ পরবর্তী সিরিয়া পুনর্গঠনে আগামী বছরও একই পরিমাণ সহায়তা দেবে ইইউ।

ইউরোপীয় কমিশন প্রধান উরজুলা ফন ডার লাইয়েন বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চাই। চলতি বছর ও আগামী বছর আমরা সিরিয়ায় ৬২০ মিলিয়ন ইউরো অর্থ বরাদ্দ দেবো। এছাড়া, সিরিয়া পুনর্গঠনে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।’

এছাড়া, নিরাপত্তা, শান্তি আর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সিরিয়াকে সহায়তা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরআগে, তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়া বিষয়ক প্রতিনিধি থমাস ব্যারাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এছাড়া, আলেপ্পোতে অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সিরিয়াকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে সীমান্ত প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক।

এএম