সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলটির সাত দিনব্যাপী শোকের ষষ্ঠ দিনে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আসেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রোববার সন্ধ্যার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করতে গুলশান কার্যালয়ে আসে বিজিএমইএ, বিসিআই, ডিসিসিআই, এফবিসিসিআইসহ ৩০ শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। সৌজন্য সাক্ষাত শেষে খালেদা জিয়ার জন্য খোলা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন তারা।
আড়াই ঘণ্টার সাক্ষাত শেষে ব্যবসায়ী নেতারা সাংবাদিকদের জানান, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং মব কালচার বন্ধ না করলে ব্যবসার প্রসার সম্ভব নয়। আগামী নির্বাচনে সরকার গঠন করতে পারলে, তারেক রহমান একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তারা।
এফবিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, ‘আমরা চেয়েছি যে সরকার যদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হয় যেকোনো সরকারের ব্যবসায়ীদের কনফিডেন্স আনতে হবে।’
বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের ইকোনমি যদি করতে হয় ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়েই কিন্তু গড়া উচিত। সেটাই আমরা উনাকে বলেছি। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এমপ্লয়মেন্ট ক্রিয়েট করা।’
ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকের বলেন, ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে পারছেন না, তাই ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে যেসব সংস্কার প্রয়োজন তা নীতিমালার মাধ্যমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন তারেক রহমান।
আরও পড়ুন:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সব সমস্যা আলোচনা হয়েছে। উনি খুব ধৈর্য নিয়ে শুনেছেন। এগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি উনি দিয়েছেন।’
এর আগে, সন্ধ্যায় তারেক রহমানের সাথে বৈঠক করে সাংবাদিক নেতারাও। তারা জানান, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে কাজ করার আশ্বাস বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, ‘মুক্ত স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য যা যা করার উনি সেই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আমরা আশা করি উনার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে আমরা একটা স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারবো।’
এদিন, সকালে খালেদা জিয়ার জন্য খোলা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিও। এসময় দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, মবসন্ত্রাস ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে শঙ্কিত তারেক রহমান। মানুষের মধ্যে শান্তি ও সৌহার্দ্য সৃষ্টির বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘তিনি বললেন রাজনৈতিক মতভেদ থাকবে কিন্তু এটাকে কোনো ধরনের সহিংস কোনো ধরনের সংস্কৃতিতে যেন না যায়। আমরা পুরো জাতিকে যেন বিভাজিত না করি।’
দেশকে ঐক্য ও সংহতির পথে এগিয়ে নিতে বিএনপি কাজ করবে বলেও জানান বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির এ নেতা।





