আজ (শুক্রবার, ২ জানুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ের সময় একরামুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে একরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা এবং হত্যা মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে স্বতন্ত্র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার আগে একরামুজ্জামান দীর্ঘ সময় বিএনপির রাজনীতি করেছেন। তিনি দলটির প্রয়াত চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন।
তবে দলের নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
ভোটে জেতার পর ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বোটক্লাবে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সঙ্গে নাসিরনগর উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন একরামুজ্জামান।
২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একরামুরজ্জামানের বিরুদ্ধে নাসিরনগর ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলফনামায় একরামুজ্জামান তার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা, নাসিরনগর, যাত্রাবাড়ী এবং উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া ৭টি মামলা তদন্তাধীন বলে উল্লেখ করেছেন।
‘পলাতক’ একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছিলেন নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান। তিনি এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী।
একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আব্দুল হান্নান বলেন, ‘একরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা চলমান রয়েছে। তিনি পলাতক আসামি। তাছাড়া তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা। তিনি কীভাবে নির্বাচন করেন? তাই আমরা এটি বাতিলের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর ইসলাম জানান, নাসিরনগর থানার মামলাটিতে ওনি (একরামুজ্জামান) জামিন নেননি। ওনি কাগজে-কলমে পলাতক আছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান বলেন, ‘সকল কাগজপত্র সঠিক থাকায় একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। অপর প্রার্থীর লিখিত অভিযোগটি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আপত্তি থাকলে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।’





