একুশ বর্গকিলোমিটারের দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া। বঙ্গোপসাগর আর মেঘনা বেষ্টনীতে থাকা এ জনপদটি নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। চারপাশে রয়েছে ছোট-বড় আরও বাইশটি চর ও উপদ্বীপ। এরই একটি চর আতাউর। যেখানে গত সাত বছর ধরে বসবাস করছে চার শতাধিক পরিবারের প্রায় দুই হাজার মানুষ।
চরে রয়েছে দুটি গুচ্ছগ্রাম ও একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প। নেই পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা। সরকারি উদ্যোগে খনন করা হয়েছিল দুটি বড় পুকুর। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অস্বাভাবিক জোয়ারে পুকুরের পাড় ভেঙে ঢুকে পড়ে নদীর লবণাক্ত পানি। পলি জমে পুকুরগুলো এখন প্রায় সমতলে পরিণত হয়েছে—পানি আর ধরে না। নিরুপায় হয়ে নিজেদের উদ্যোগে ঘরের সামনে মাটি কেটে তৈরি করা গর্তে জমে থাকা পানি ব্যবহার করছেন তারা। মানুষই শুধু নয়—গৃহপালিত পশু-পাখিও বেঁচে আছে সেই পানির ওপর।
আরও পড়ুন:
চরবাসীরা জানান, সেখানে তিনশো পরিবার রয়েছে। এ তিনশো পরিবারের জন্য একটি পুকুরও নেই। গর্ত করে সেখান থেকে তারা পানি সংগ্রহ করে থাকেন। এ জায়গার পানিই তারা গবাদি পশুদেরও খাওয়ান।
চারটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও তিনটি আগেই বিকল, আর একটি ব্যবহার অনুপযোগী। বিশুদ্ধ পানির অভাবে লবণাক্ত পানি ব্যবহারে চরের মানুষের মধ্যে বাড়ছে চর্মরোগ, অ্যালার্জিসহ নানা অসুখ।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘সামনের আমরা যেকোনো বরাদ্দ থেকে চেষ্টা করব পুকুর খনন ও তাদের কিছু টিউবওয়েল খননের মাধ্যমে তাদের সমস্যা সমাধান করার।’
চর আতাউরের সুপেয় পানির সংকট সমাধানের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিতে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার দাবি স্থানীয়দের।





