খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর মনে হচ্ছে মির্জা ফখরুল একা হয়ে পড়েছেন: শফিকুল আলম

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, শফিকুল আলম
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, শফিকুল আলম | ছবি: এখন টিভি
0

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভীষণ একা হয়ে পড়েছেন বলে মনে করছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। গতকাল (বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি এ কথা লেখেন।

গতকাল বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দাফন শেষে ফেসবুকে রাত ৮টার দিকে শফিকুল আলম এ পোস্ট দেন।

শফিকুল আলম লেখেন, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্য আমার মনটা খুব বিষণ্ন হয়ে আছে। অনেক বছর ধরে তিনি আমার অন্যতম রাজনৈতিক আদর্শ। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি, তিনি কতটা কষ্ট সহ্য করেছেন। কীভাবে দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঠিক নিজের সন্তান বা নিকটাত্মীয়ের মতো।

তিনি লেখেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর থেকে আমার মনে হচ্ছে তিনি (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) ভীষণ একা হয়ে পড়েছেন। একত্রে এই দুই নেতা আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম এক সম্মানিত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদারিত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

আরও পড়ুন:

তিনি আরও লেখেন, সহমর্মিতা এবং নীরবে ধৈর্য ধরার ক্ষমতার জন্য তারা দুজনেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। তারা খুব কমই মেজাজ হারাতেন। অহংকার তাদের ছুঁতে পারতো না বললেই চলে। কঠিন সময়ে তারা অত্যন্ত যত্ন এবং সংযমের সঙ্গে জনগণকে পথ দেখিয়েছেন।

বিএনপির মহাসচিবের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে শফিকুল আলম আরও লেখেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মির্জা ফখরুলের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। তিনি এখন আর সেই চেনা মহাসচিব নেই, যিনি একসময় দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চষে বেড়াতেন।

তিনি লেখেন, খালেদা জিয়া যখন তাকে মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেন, তখন তিনি বিএনপির একজন মধ্যম সারির নেতা ছিলেন এবং তার সেন্টার-লেফট আদর্শিক ঝোঁকের জন্য পরিচিত ছিলেন। তবুও সংকটের মুহূর্তে তিনিই সবচেয়ে দক্ষ কাণ্ডারি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

প্রেস সচিব লেখেন, বেগম খালেদা জিয়ার পাশে থেকে তিনি দলটিকে সুসংগঠিত ও অটল রেখেছিলেন। কিন্তু জুলাই মাস যখন এলো, তখন বড্ড দেরি হয়ে গেছে। খালেদা জিয়া মৃত্যুশয্যায় ছিলেন এবং মির্জা ফখরুল নিজেও তার শরীরের শক্তি অনেকটা হারিয়ে ফেলেছেন। এ এক যুগের অবসান।

এসএস