মনোনয়ন দাখিলের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি কাঠামোয় প্রবেশ করেছেন প্রার্থীরা। যাচাই-বাছাই শেষে ঘোষণা হবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা। এরইমধ্যে উঠান বৈঠকসহ নির্বাচনের নানা পরিকল্পনা সেরে নিচ্ছেন প্রার্থীরা।
ভোটের মাঠে ফলাফল নির্ধারণে এবার মূল নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা রাখবে নারী ভোটাররা, যারা সংখ্যায় মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক। নারীদের ভোট কেন্দ্রে উপস্থিতি এবং ভোটদান নিশ্চিত করতে পারলেই সুসংহত হবে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা। এজন্য প্রয়োজন নিরাপত্তা আর ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি।
ময়মনসিংহ থানাঘাট বস্তির খুপরি ঘরে বসবাস করেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আয়েশা বেগম। তীব্র শীতে কষ্ট করলেও একটি শীত বস্ত্র জোটেনি তার কপালে।তাই তার কাছে ভোট মানে শীতবস্ত্রের সুষ্ঠু বণ্টন আর ক্ষুধা নিবারণের নিশ্চয়তা এবং শ্রমমূল্যের অমানবিক বৈষম্য থেকে মুক্তি। শহর কিংবা গ্রাম। নিম্ন আয়ের প্রান্তিক মানুষের ভোটের গল্পটা অনেকটা এমনই।
আয়েশা বেগম বলেন, ‘এতো মানুষকে এতে কিছু দিয়েছে। সবার মুখ চিনে চিনে দিয়েছে। কম্বল, মশারী দিয়েছে আমাদের তো কিছু দেয়নি।’
বস্তির বাসিন্দারা জানান, ‘সুষ্ঠুভাবে ভোট হবে, তারা ভোট দিবেন। তবে ভোটে জয়ীরা যেন তাদের সাহায্যে কাজ করেন বস্তিবাসীদের এটিই দাবি।’
আরও পড়ুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত নতুন নারী ভোটাররা। অপেক্ষা ভোটের দিনের। তবে বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে তাদের মধ্যে। নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে, নির্বাচনে বিজয়ীদের ভূমিকা রাখার কথাও বললেন তারা।
নতুন ভোটাররা জানান, ‘নতুন বাংলাদেশ নিয়ে তাদের অনেক প্রত্যাশা। জুলাই আন্দোলনের পর থেকে তারা নতুন বাংলাদেশ নিয়ে প্রত্যাশা রেখেছেন। কর্মসংস্থানের দাবি, নারীদের নিরাপত্তার দাবি নতুন ভোটারদের।’
সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির অপেক্ষায় নারী উদ্যোক্তারা। সুদ-বিহীন পুঁজি সরবরাহ এবং সহজশর্তে ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তির পাশাপাশি দেশে-বিদেশে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি করে দেয়ার প্রত্যাশা নারী উদ্যোক্তাদের। এছাড়াও নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব-অপপ্রচার ও সাইবার বুলিং নারীদের ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশংকা নারী নেত্রীদের।
নারী উদ্যোক্তারা জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট প্রক্রিয়া হোক এটি তাদের দাবি। ব্যাংক থেকে তাদের যেন আরও সহযোগিতা করা হয় এটিই তাদের চাওয়া।
ময়মনসিংহ জেলা শাখা বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সাধারণ সম্পাদক ফাহমিদা ইয়াসমিন রুনা বলেন, ‘শুধু কথায় না। কার্যতই নারী বান্ধব সরকার যেন আসে আমরা এটিই চাই।’
বর্তমানে দেশে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৫ হাজার আর ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ভোটারই নারী।





