ট্রাম্পের শুল্কনীতির আঁচে নতুন রেকর্ডের পথে স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
0

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতির আঁচ লেগেছে বিশ্বের স্বর্ণের বাজারে। বিশ্ববাজারে নতুন রেকর্ড স্পর্শের দ্বারপ্রান্তে স্বর্ণের দাম। বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রিপ্টো, বিট কয়েন বা ডলারের বিপরীতে নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ডলার কেন্দ্রিক অর্থনীতির আধিপত্য ফুরালে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের বিকল্প পাওয়া যাবে না।

শপথ নেয়ার পর থেকে বাণিজ্য শুল্ক আরোপের ঝড় তুলছেন নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এতেই টালমাটাল বিশ্বরাজনীতি; বহুমুখী বাণিজ্য যুদ্ধের আভাস দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

খামখেয়ালি অথচ দূরদর্শী ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে আচমকাই বিশ্ববাজারে শুরু হয় আন্তর্জাতিক মুদ্রার দরপতন। অথচ, ডলার, ক্রিপ্টোকে ছাড়িয়ে নতুন মাইল ফলক স্পর্শের পথে স্বর্ণের দাম।

চলতি সপ্তাহে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। যা কার্যকর হবে আগামী ৪ মার্চ থেকে।

এ ঘোষণার পরপর গেল সোমবার স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে রেকর্ড ২ হাজার ৯১১ ডলারের পৌঁছায়। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রতি আউন্স সোনার দাম আরও ৩১ ডলার বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৪২ ডলারে।

এতে করে স্পট গোল্ড বা শেয়ার বাজার থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কেনা যাবে এমন স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। যার বিনিময় মূল্য ছিল ২ হাজার ৯১৬ ডলার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুদ্রার মান ওঠানামা করায় নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল জানায়, স্বর্ণের দাম যেহেতু মুদ্রার মানের সাথে ওঠানামা করে না তাই চুক্তিভিত্তিক স্বর্ণ বা ফিউচার গোল্ডের দর ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

২০০৮ সালে প্রথমবার স্বর্ণের দাম যখন আউন্স প্রতি ১ হাজার ডলার ছাড়ায়, তখন আবাসন সংকটে টালমাটাল ছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর আবারও ২০১১-এর সেপ্টেম্বরে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়ায় রেকর্ড ১ হাজার ৯শ ডলারে।

আল জাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, এসময় আর্থিক মন্দার সাথে লড়ছিল গোটা বিশ্ব। এর ১১ বছর পর ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত শুরু হলে ২০২২-এর মার্চে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭০ ডলারে। ঐ একই বছর ফেব্রুয়ারির তুলনায় যা ছিল প্রায় ১৬০ ডলার বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বারবার ইঙ্গিত করছেন, ডলার কেন্দ্রিক অর্থনীতি থেকে বের হওয়ার যে জোর প্রচেষ্টা চলছে, তারও প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারে। পাশাপাশি এতে নতুন করে ঘি ঢেলেছে ট্রাম্পের শুল্কনীতি। আর, ক্রিপ্টো ও বিটকয়েন সরাসরি বিনিময়যোগ্য না হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বিকল্প নেই বলেও মত অনেকের।

গেল বছর ৪ হাজার ৯শ কোটি ডলারের স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যার বেশিরভাগই এসেছে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, প্রতিবেশী এই দুই দেশের পণ্যে চড়া শুল্ক আরোপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিনরাই। আর বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা ট্রাম্পের টালমাটাল শুল্কনীতি আর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা বাণিজ্য যুদ্ধের জেরে অচিরেই ৩ হাজার ডলারের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে সোনালী ধাতু।

এএইচ