গেল ১০ বছরের শাসনামলে ফকির বা সাধু ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এককালের চা বিক্রেতা হওয়ায় জায়গা করে নিয়েছেন সাধারণ ভারতীয়দের মনে। কিন্তু যদি বলা হয়, স্বঘোষিত ফকির প্রধানমন্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি রুপির বেশি, তাহলে হয়তো অনেকেরই চোখ কপালে উঠে যাবে।
মঙ্গলবার (১৪ মে) উত্তরপ্রদেশের বারানসি থেকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ২ লাখ রুপি। যার ৯৪ শতাংশ অর্থই জমা আছে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায়। বাকি সম্পদের মধ্যে আছে ৪টি স্বর্ণের আংটি, সঞ্চয়পত্র ও নগদ অর্থ।
৫ বছরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি। সে সময় গুজরাটের গান্ধীনগরে একটি বাড়ির কথা উল্লেখ করা হলেও এবারের হলফনাফায় দেখানো হয়েছে কোনো স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা নেই নরেন্দ্র মোদির কাছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও তার স্ত্রীর যৌথ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬৬ কোটি রুপি। ৫ বছরে সম্পদ বেড়েছে ১০০ শতাংশের বেশি। দম্পতির অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৩ কোটি রুপি। শুধু আহমেদাবাদেই অমিত শাহের বাড়ি আছে ৫টি। কৃষি জমি ও বাড়িসহ দম্পত্তির স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২২ কোটি রুপির বেশি।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সম্পত্তির পরিমাণ দেড় কোটি রুপির বেশি। ২০২২ সালের নির্বাচনী হলফনাফা অনুযায়ী ১২ হাজার রুপির মুঠোফোন ব্যবহার করেন তিনি। প্রায় ২ লাখ রুপির ২টি অস্ত্র আছে তার। সম্পত্তির বেশিরভাগ অর্থই ব্যাংকে জমা আদিত্যনাথের, যদিও তিনি কোনো স্থাবর সম্পত্তির মালিক নন।
প্রায় দেড়শো বছর পুরনো কংগ্রেসের রাজনৈতিক ব্যাটন এখন রাহুল গান্ধীর হাতে। গান্ধী পরিবার থেকে ৩জন ছিলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। যার প্রতিফলন দেখা গেছে রাহুল গান্ধীর সম্পদে। নরেন্দ্র মোদির ৬ গুণের বেশি সম্পদ আছে রাহুল গান্ধীর। প্রায় ২১ কোটি রুপির সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৮০০ একরের ফসলি জমি, ২টি ফ্ল্যাট ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি। রাহুল গান্ধীর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি রুপির বেশি।
ভারতের রাজনীতি পর্যালোচনাকারী সংস্থা এডিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশটির ৩০ মুখ্যমন্ত্রীর ২৯ জনই কোটিপতি। সবচেয়ে বেশি সম্পদ অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগন রেড্ডির, ৫১০ কোটি রুপির বেশি। অন্যদিকে একমাত্র মুখমন্ত্রী হিসেবে সর্বনিম্ন ১৫ লাখ রুপির মালিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিজেপি সরকারের আমলে বিশ্বের ৫ম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে ভারত। অথচ এসময় দেশটিতে ধনী গরিবের বৈষম্য পৌঁছেছে ১০০ বছরের মধ্যে শীর্ষে। বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারতের অবস্থান ১২৫ দেশের মধ্য ১১১তম। প্রতিবছরই দুর্নীতির সূচকে পেছাচ্ছে নয়াদিল্লি।
 founder Abhijeet Dipke during a protest-320x167.webp)

 hold placards-320x167.webp)

