আপনারা বাংলা নিয়েছেন, আমরা দিল্লি নেবো—মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: এখন টিভি
0

বিজেপি বাংলা নিয়েছে আমরা এবার দিল্লি নেবো—হুগলির জনসভায় এ মন্তব্য করেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবার শোচ্চার কংগ্রেস, মমতাপন্থী তৃণমূলসহ বিরোধীদলগুলো। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বৈঠকে বসছে বিরোধী জোট। এদিকে মমতার জনসভায় যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এসময় তার গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি ছোড়া হয় ডিম।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জোট বেঁধে মাঠে নামছে বিরোধীদলগুলো। সর্বভারতীয় স্তরে একসঙ্গে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস, সিপিএম ও মমতাপন্থী অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে নির্বাচন কমিশন—এমন অভিযোগ বিরোধী জোটের।

এবার নিজেদের রণকৌশল স্থির করতে মুখোমুখি বসছে বিরোধী জোটের নেতারা। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে উল্লেখ করে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বৈঠকে বসবে বিরোধী শরিক দলগুলো, যেখানে জ্ঞানেশ কুমারের বিষয়ে পদক্ষেপ এবং সংশোধিত ভোটার তালিকা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শুরু যখন হয়েছে, শেষ তো হবেই। ইউপিতেও জাগবে, বিহারেও জাগবে, মহারাষ্ট্রেও শুরু হয়েছে, বাংলাতেও নিজেদের মতো করে বাজার।’

বিধানসভার নির্বাচনের পরাজয়ের পর প্রথমবারের মতো শনিবার বিকেলে হুগলির শ্রীরামপুরে দলীয় সভায় যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, জোর করে বাংলা দখল করতেই ভোটে কারচুপি করেছে বিজেপি। এ সময় দিল্লি দখলের হুঁশিয়ারি দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, ‘একটা চেয়ার দখল করেছেন জোর করে, ওই চেয়ারটাকে আমরা কেয়ার করি না। আমরা মানুষের চেয়ার কেয়ার করি। আপনারা বাংলা নিয়েছেন, আমরা দিল্লি নেবো।’

বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মমতা জানান, সবাই রাস্তায় নামছে, চারিদিকে ঝড় উঠেছে। দিল্লি সরকার ২০২৯ পর্যন্ত টিকবে কিনা তা নিয়েও সংশয় জানান তিনি। মমতার সভায় উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য ও বিধায়ক।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি বলছি আমার পরিবারকে বাঁচাবো।’

এদিকে মমতার সভায় যোগ দেওয়ার পথে হামলার শিকার হন মমতা পন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এ সময় তার গাড়িতে পাথর, ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ ডিম ছোড়া হয়। গাড়ির কাঁচ ভেঙে আহত হন কুণাল ঘোষও।

তিনি বলেন, ‘বিজেপির গুন্ডারা ঘুরছে, আমাকে চেজ করছে স্কুটারে, গাড়িতে। ফলে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আর জনবহুল রাস্তা, আমি চাই না ওই রাজনৈতিক অশান্তিতে সাধারণ মানুষ কেউ কোনোভাবে জখম হোক বা অশান্তি হোক।’

কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের অংশ নিতে দিচ্ছে না বলে শুভেন্দু সরকারের বিরুদ্ধে এদিন অভিযোগ তুলেছে মমতার অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস।

এসএস