উত্তরের ফুসফুসখ্যাত রংপুরের ছয় আসনের দুটিই নিজেদের করে নিয়েছেন দুই নতুন মুখ। নতুনদের দুজনই সাবেক দুই উপজেলা চেয়ারম্যান। রংপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের ছেড়ে দেয়া লাঙ্গলের প্রার্থীকে হটিয়ে জয়ের হাসি হেসেছেন আসাদুজ্জামান।
আর রংপুর-৫ এ সরকারি দলের হেভিওয়েট প্রার্থী রাশেক রহমানকে হারিয়ে সংসদের পথে জাকির হোসেন সরকার।
এদিকে পঞ্চগড়-১ আসনে নৌকা জিতেছে। নতুন মুখ পেয়েছেন সদর, আটোয়ারী ও তেঁতুলিয়া উপজেলার জনগণ। ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৪২ ভোট নিয়ে জিতেছেন নাঈমুজ্জামান ভুইয়া মুক্তা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের সাবেক এই জনপ্রেক্ষিত কর্মকর্তা বর্তমানে ন্যাশনাল ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া নয়া মুখ আছে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে। জেলার বালিয়াডাঙ্গী সমির উদ্দিন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মাজাহারুল ইসলাম সুজন ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বেসরকারিভাবে।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শস্য ভাণ্ডারের জেলা দিনাজপুরের বীরগঞ্জ-কাহারোল উপজেলা নিয়ে দিনাজপুর-১ আসনে ১ লাখ ১৫ হাজার ৫১৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছে জাকারিয়া জাকা। বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকা রাজনীতির পাশাপাশি করেন চালকল ব্যবসা।
উত্তরের আরেক জেলা নীলফামারী-৩ আসনে প্রথমবার জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন পাভেল। কাঁচি প্রতীকে ভোটের মাঠে থেকে শেষ হাসি হাসলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এই নেতা যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।
এছাড়া নীলফামারী-৪ আসনে লাঙ্গলের দুর্গ ভেঙেছেন জাতীয় পার্টির বহিস্কৃত জেলা সহ-সভাপতি সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার বিজয়ী সিদ্দিক বিভিন্ন রপ্তানীমুখী ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
এদিকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূণর্বাসন কেন্দ্র ঢাকা'র অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক হামিদুল হক খন্দকার জয়ের তরী ভিড়িয়েছেন চিলমারীর বন্দরে। কুড়িগ্রাম-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ে প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আর কুড়িগ্রাম-৩ ও ৪ আসনের জনগণ পেয়েছে নতুন সংসদ সদস্য। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে আওয়ামী লীগের টিকিটে সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে নির্বাচিত হয়েছেন প্রথমবার আর কুড়িগ্রাম-৪ এর সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের মনোনীত মো. বিপ্লব হাসান।
এদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ আসনে ভোট করায় লালমনিরহাট-৩ আসনে লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছিলেন দলের অন্য এক নেতা। তবে ভোট যুদ্ধে সবাইকে পেছনে ফেলে এবার জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান। নৌকা প্রতীকের এই প্রার্থী পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪০১ ভোট। ফলে প্রথমবারের মত সংসদে স্থানীয় মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।
ভোটের সমীকরণ আর জাতীয় রাজনীতিকে ছাপিয়ে উত্তরবঙ্গে শিল্পায়ন আর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থায় নতুন-পুরাতন সংসদ সদস্যরা মনোযোগী হবেন, এমন প্রত্যাশা উত্তরের মানুষের।




