জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
সুকুমার বড়ুয়ার মেয়ে অঞ্জনা বড়ুয়া বলেন, ‘বাবা অনেক দিন ধরে নানা অসুখে ভুগছিলেন। গত এক সপ্তাহ তিনি চট্টগ্রামের মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গত শুক্রবার তাকে জে কে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বাবার ফুসফুসে পানি জমে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা চেষ্টা করছিলেন সেই পানি বের করে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। বাবা আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছেন।’
তার মৃত্যুতে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
আরও পড়ুন:
১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুকুমার বড়ুয়া। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু হয় ছন্দের জাদুকরের। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৯ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
ব্যঙ্গাত্মক, হাস্যরসাত্মক, নৈতিক শিক্ষামূলক রচনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর রাজনৈতিক বার্তাও তার লেখায় উঠে এসেছে। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে– ‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া;, ‘কিছু না কিছু’ প্রভৃতি।
ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৭ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার।
এছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্মাননা, অবসর সাহিত্য পুরস্কার, আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননা, চন্দ্রাবতী শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন তিনি।





