তাপপ্রবাহে পুড়ছে মেহেরপুর; জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত বোরো চাষ

মেহরেপুরের ধান খেত
মেহরেপুরের ধান খেত | ছবি: এখন টিভি
0

মেহেরপুরে তাপপ্রবাহের পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বোরো চাষসহ সব ধরনের আবাদ। গত কয়েকদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি। এতে খেত ফেটে চৌচির হওয়ার ফলে হুমকির মুখে বোরো ধান। ধান বাঁচাতে দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত সেচ। সেচ দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না কৃষক।

মেহেরপুরে ভোর থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না চাষিরা। জেলায় মোট তেল পাম্প ১৫টি, আর বিভিন্ন গ্রামে বৈধ তেল বিক্রির ডিলার পয়েন্ট প্রায় অর্ধশতাধিক। সবখানেই দীর্ঘ লাইন। জেলার বিভিন্ন মাঠে ৩০ হাজারের অধিক ইঞ্জিনচালিত পানির পাম্প রয়েছে। তবে সেগুলো অধিকাংশই তেলের অভাবে বন্ধ রয়েছে। আবার বিদ্যুৎ চালিত মোটরগুলো অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। চাহিদার তুলনায় তেল না পাওয়ায় কৃষকদের তেল না দিতে পারার কথা জানান তেল ডিলার।

জেলার তিন উপজেলার বিভিন্ন মাঠজুড়ে বোরো ধানে ফুল এসেছে। বোরো ধান পর্যাপ্ত পানি না পেলে চিটা হয়ে যায়, তাই প্রতিদিনই দিতে হয় সেচ। স্বাভাবিক সময়ে এক বিঘা জমির জন্য ৩০টি সেচ প্রয়োজন হয়। অতিরিক্ত খরার কারণে এবার দিতে হবে ৪৫ থেকে ৫০টি। তাই, তেল সংকটের কারণে সেচ নিয়ে চিন্তায় চাষিরা। যদিও ধান বাঁচাতে চাষিদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ার কারণে ফসলে ঠিকভাবে পানি দিতে পারছেন না বলে জানান চাষিরা।

আরও পড়ুন:

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলিত মৌসুমে তিন উপজেলায় ১৯ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি থেকে ৮৭ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রতি টন ধানের আনুমানিক বাজার মূল্য ৩৫ হাজার ২০০ টাকা। সে হিসেবে এবার ৩০০ সাত কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সঞ্জীব মৃধা বলেন, ‘প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে যেন কৃষকদের জন্য আলাদা করে পাম্পগুলোয় লাইনের ব্যবস্থা রাখা হয়। আর আমরা এটাও দৃষ্টি রাখছি যেন প্রকৃত কৃষকরা তেল পায়।’

তেল সংকট কাটিয়ে এবছর বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে, যা থেকে সারা বছরের খাদ্য সঞ্চয় হবে- এমনটাই প্রত্যাশা জেলার কৃষকদের।

জেআর