নীলফামারীর মিষ্টি কুমড়া রপ্তানির উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে

মিষ্টি কুমড়া | ছবি: এখন টিভি
0

আলুর পর এবার বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে নীলফামারীর মিষ্টি কুমড়া। নিরাপদ খাদ্য কর্মসূচির আওতায় এ উপজেলায় এবার ২০০ বিঘা জমিতে চাষ হয়েছে মিষ্টি কুমড়া। জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত কুমড়া এবার মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানির চেষ্টা চলছে। প্রতি বিঘায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন কৃষকরা।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে এ বছর ৬০০ বিঘা জমিতে চাষ হয়েছে মিষ্টি কুমড়া। তার মধ্যে ২০০ বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ফেরোমন ও আঠালো ফাঁদ এবং মৌ বাক্স স্থাপন প্রকল্পে চাষ হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া।

গত বছর এ প্রকল্পে অল্প কিছু জমিতে চাষ করে ভালো লাভ পান কৃষকেরা। আলুর জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষে ব্যয় যেমন কমে, তেমনি বাড়তি সার বা কীটনাশক ব্যবহার না করায় সেই খরচও বাঁচে। গত বছর উৎপাদিত ফসল থেকে ৫০ টন কুমড়া মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করা হয়।

একজন কৃষক জানান, ফলনটা বেশি হয়েছে এবং বিঘা প্রতি ৬০-৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা বিক্রি হবে বলে আশা তাদের।

কিশোরগঞ্জের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আকতারুল জামান বলেন, ‘কৃষক সবসময় প্রযুক্তি গ্রহণ করতে চায় না। আমরা সবসময় মাঠ পর্যায়ে কৃষকের দোরগোড়ায় যেয়ে আমরা এই প্রযুক্তিগুলো দেওয়ার চেষ্টা করি।’

আরও পড়ুন:

কুমড়া ফুলে পরাগায়নের পরিমাণ বাড়াতে প্রকল্পের আওতায় এ বছর মৌ বাক্সও বসানো হয়েছে। ১২টি বাক্স নিয়ে আশাবাদী মৌচাষিও। প্রতি কেজি মধু বিক্রি হবে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায়।

মধু চাষি মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, ‘কুমড়া ফুলের মধ্যে একটু কম হয়, একটা বক্সে ২ কেজি করে মধু ইনশাআল্লাহ সাত-আট দিন পর পর পাব।’

পুরো নীলফামারী জেলায় এবছর ৪০০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। তবে রপ্তানির জন্য মূল চাহিদা থাকে নিরাপদ খাদ্য।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজু রহমান বলেন, ‘আলুর জমিতে কুমড়া চাষ করার কারণে সারের দরকার হয় না তেমন একটা।’

এ বছরের মিষ্টিকুমড়া মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানির লক্ষ্য নিয়েছে কৃষি বিভাগ। সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. নায়িরুজ্জামান বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের এ জাতীয় কিছু ফসলের জন্য আমাদের একটা প্রজেক্ট আছে। কৃষি বিভাগের একটা প্রজেক্ট আছে। আমরা অবশ্যই তাদেরকে ফ্যাসিলিটেট করব যাতে ওনারা এ প্রোডাক্টটা বাইরে সেল করতে পারে।’

একক কোনো ফসল চাষ না করে, বহুমুখী ফসল চাষ জনপ্রিয় হলে একদিকে যেমন কৃষক লাভবান হবেন, তেমনি দেশেও বৈদেশিক মুদ্রা বেশি আসবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

জেআর