আবারও ব্যালন ডি'অরের হাতছানি মেসির

মেসির হাতে ব্যালন ডি'অর
মেসির হাতে ব্যালন ডি'অর | ছবি: সংগৃহীত
0

রীতিমতো রূপকথা! ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বফুটবলকে নাচাচ্ছেন লিওনেল মেসি। আগামীকালের (রোববার, ১৯ জুলাই) বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু আর্জেন্টিনার সামনে বিশ্বসেরা হওয়ার মঞ্চই নয়, বরং এটি নির্ধারণ করে দিতে পারে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ভাগ্যও। বর্তমান বাজির দর এবং ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, এই দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে এলএমটেন।

সময় বদলায়, বয়স বাড়ে, কিন্তু লিওনেল মেসির জাদু অপরিবর্তিত। ২০১১ সালে পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনায় যে মেসিকে বিশ্ব দেখেছিল, ২০২৬-এর যুক্তরাষ্ট্রেও ঠিক যেন সেই একই রূপ। ৩৯ ছুঁইছুঁই, খেলছেন ইউরোপের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে—তাতে কী! যখনই গায়ে জড়িয়েছেন আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি, তখনই চেনা ছন্দে রুদ্রমূর্তি এই মহাতারকার।

চলতি বিশ্বকাপে ৮ গোল এবং ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে তুলেছেন অধিনায়ক মেসি। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। রোববারের ফাইনালে স্পেনকে হারাতে পারলে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্বকাপ জয়ের অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়বেন মেসি। আর তাতেই নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে তার নবম ব্যালন ডি'অর।

আরও পড়ুন:

অথচ ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এবার মেসির নাম থাকারই কথা ছিল না। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন কিংবা আর্লিং হালান্ডের মধ্যে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৬১ গোল করেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল থেকে কেইনের বিদায় তাকে ছিটকে দিয়েছে রেস থেকে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ট্রফিহীন মৌসুম আর বিশ্বকাপের হৃদয়ভাঙা বিদায়ে এমবাপ্পের সম্ভাবনাও ফিকে। আর নরওয়েকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে এনেও খালি হাতে ফিরেছেন হ্যালান্ড।

মেসির সামনে এখন একমাত্র বাধা বার্সেলোনার ১৯ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি ল্যামিন ইয়ামাল। বার্সার হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো ইয়ামালের স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ই পারে মেসির রাজত্বে হানা দিতে। তবে ফুটবল বিশ্বের মূল বাজি এখন মেসির দিকেই।

আরও পড়ুন:

এরইমধ্যে ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে আটটি ব্যালন ডি’অর, দুটি বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল ও ছয়টি ইউরোপীয় গোল্ডেন বুট-এর মালিক মেসি। ফুটবল বিশ্ব কি তবে আরও একবার বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখতে যাচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএস-এ খেলা কোনো ফুটবলারের হাতে ব্যালন ডি’অর ওঠা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে, কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পর সেই বিতর্ক ঢাকা পড়ে গেছে প্রশংসার জোয়ারে।

এসএস