যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই ‘একটি ম্যাচও না হারা’ ইরানের বিশ্বকাপ শেষ!

ইরানের এক ফুটবল ভক্তের কান্না
ইরানের এক ফুটবল ভক্তের কান্না | ছবি: সংগৃহীত
0

এ যেন শত্রুর ডেরায় গিয়ে নিজের সক্ষমতার জানান দিয়ে আসা; যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ইরান, তাদেরই মাটিতে উপহার দিয়েছে ফুটবলীয় লড়াই। নানা প্রতিকূলতার মাঝে একটি ম্যাচও না হেরেই নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছে তারা। আর বিদায়ের পর ইরান ফুটবলের প্রধান হেদায়েত মোমবানি বলছেন, তাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিহুয়ানা থেকে লস অ্যাঞ্জেলস কিংবা সিয়াটল. সীমান্ত, সময়ের ব্যবধান পেরিয়ে ইরান ফুটবল দল খেলেছে একের পর এক ম্যাচ। ভ্রমণক্লান্তি কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতি একপাশে রেখে লড়েছে নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে।

তিন ড্রয়ের পরেও ইরান টিকে ছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। ঘানা-উজবেকিস্তানের হার এবং আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচ ড্র হলে বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

এমন হারের পর মন ভেঙেছে ইরানের ফুটবল সমর্থকদের। হতাশা চেপে বসেছে দেশটির ফুটবলের শীর্ষ কর্তাদের মাঝেও। তবে বিদায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধেও কথা বললেন ইরান ফুটবলের প্রধান।

ইরান ফুটবলের প্রধান হেদায়েত মোমবানি বলেন, ‘খুবই প্রতিকূল পরিস্থিতি। ক্যাম্প নতুন জায়গায় সরিয়ে নেয়ার পর আমাদের অনেকগুলো সমস্যার সামনে পড়তে হয়েছিলো। ১৫ স্টাফ এবং কোচের ভিসাজনিত জটিলতা ছিলো। কিন্তু ম্যাচের জন্য আমরা ১৫-১৬ ঘণ্টা আগে ভেন্যুতে ছিলাম। অনেক চ্যালেঞ্জ ছিলো। আপনি ফুটবল বোঝেন, আপনি জানেন ইরানের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা হয়নি।’

আরও পড়ুন:

যুক্তরাষ্ট্রের কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়লেও মেক্সিকোর জনগণের সমর্থন পেয়েছে ইরানের ফুটবলাররা। নিজ দেশে ফেরার আগে ইরানের পাশে থাকা মেক্সিকোকে ধন্যবাদ জানাতেও ভুললেন না তিনি।

হেদায়েত মোমবানি বলেন, ‘এমনকিছু আমাদের জন্য একেবারেই নতুন, বিদেশি কোনো দেশের কাছে সমর্থন পাওয়া। মেক্সিক্যানরা যেকোনো বিদেশিদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে কাছে টেনে নিতে পারে। আর তারাও এখন আমাদেরই অংশ হয়ে গিয়েছে। ওরা নিজেদের পরিবার নিয়ে আমাদের সমর্থন দিয়েছে। আমরা কৃতজ্ঞ যে, তারা আমাদের পাশে আছে।’

নকআউটে যেতে না পারলেও যুক্তরাষ্ট্রের মাঠ থেকে মাথা উঁচু করেই নিজ দেশে ফিরছে ইরান। সেইসঙ্গে তাদের সঙ্গী, শত্রুর ডেরায় অজেয় থাকার তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি।

এসএইচ