গুইলারমো ওচোয়া
মেক্সিকান গোলরক্ষক গুইলারমো ওচোয়াকে বলা হয় বিশ্বকাপের এক জীবন্ত বিস্ময়। বিশ্বকাপের আগে বা পরে তেমন কোনো আলোচনায় না থাকলেও, ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ এলেই যেন অতিমানবীয় রূপ ধারণ করেন তিনি। ফের আরেক বিশ্বকাপের আগে লাইমলাটে এ মেক্সিকান গোলরক্ষক। দলটির নিয়মিত গোলরক্ষক ইনজুরিতে পড়ায় ৪০ বছরের ওচোয়া প্রস্তুত হচ্ছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার। তার মতো শুধু বিশ্বকাপেই আলো ছড়ানো ফুটবলার আছেন আরও বেশ কয়েকজন।
পাউলো রসি
১৯৮২ সালে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষে বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইতালি দলে ফেরেন পাউলো রসি। প্রথম চার ম্যাচে গোলহীন থেকে সমালোচিত হলেও, ফেভারিট ব্রাজিলের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, সেমিফাইনালে জোড়া গোল এবং ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে গোল করে ৪৪ বছর পর ইতালিকে এনে দেন বিশ্বসেরার মুকুট। রসিই একমাত্র ফুটবলার, যিনি একই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল ও বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছেন। তবে এরপরেই যেন তিনি বনে যান গড়পড়তা একজন ফুটবলার। ক্লাব ফুটবলে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি এ বিশ্বকাপ তারকা।
আরও পড়ুন:
তোতো শিলাচিও
১৯৯০ বিশ্বকাপের ‘ইতালিয়ান বিউটি’ তোতো শিলাচিও ছিলেন এক আসরের রাজা। বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলে খেলেছিলেন মাত্র দুটি ম্যাচ। বেঞ্চ থেকে মূল দলে এসেই তিনি মেক্সিকো আসর মাতিয়েছিলেন। আসর শেষে ৬ গোল করে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুটও। তবে শিলাচির পতন ছিলো তার উত্থানের মতোই নাটকীয়। জাতীয় দলের হয়ে এরপর আর মাত্র একটি গোলই করতে পেরেছিলেন। সিরিআতেও ব্যর্থ হয়ে ৩০ বছর হওয়ার আগেই তাকে পাড়ি জমাতে হয় জাপানের লিগে।
হামেস রদ্রিগেজ
২০১৪ বিশ্বকাপের আবিষ্কার কলম্বিয়ান তারকা হামেস রদ্রিগেজ। মাত্র ২২ বছর বয়সে ফ্যালকাওয়ের অনুপস্থিতিতে পুরো দলের ভার কাঁধে নিয়ে ৬ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন তিনি। উরুগুয়ের বিপক্ষে তার সেই অসাধারণ ভলিটি বছরের সেরা গোল হিসেবে পুসকাস অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়। এ এক আসরের দাপটেই তিনি রাতারাতি বিশ্বতারকায় পরিণত হন এবং রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে খেলার সুযোগ পান। তবে নিজের নামের ভার আর পরবর্তীতে বয়ে নিতে পারেননি তিনি।
ডেনিস চেরিশেভ
২০১৮ আসরে স্বাগতিক রাশিয়ার রূপকথার নায়ক ছিলেন ডেনিস চেরিশেভ। একজন বদলি খেলোয়াড় থেকে হঠাৎ করেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা তারকায় পরিণত হন তিনি। প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। পুরো আসরে চারটি দর্শনীয় গোল করে রাশিয়াকে ৩২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে মুখ্য ভূমিকা রাখেন এ মিডফিল্ডার। তবে বিশ্বকাপের পর আবারও হারিয়ে যান তিনি।





