১৯৫০ এর মারাকানা ট্র্যাজেডির পর বাবাকে বিশ্বকাপ এনে দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ব্রাজিলের এক শিশু। ৮ বছরের ব্যবধানে ১৯৫৮ সালে সেই কথা রেখেছিলেন পেলে।
এরপর ১৯৬২ সালে ইনজুরির কারণে বেশিরভাগ সময় বেঞ্চে কাটালেও বিশ্বকাপের শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছিলেন। তবে পেলে অমর হয়ে যান ১৯৭০ সালে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা দলটার হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। তিন বিশ্বকাপ জেতা একমাত্র খেলোয়াড় হয়ে এখনও গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের কিংবদন্তি পেলে।
দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার গল্পটা একটু অন্যরকম। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফকল্যান্ড যুদ্ধের বদলা নিতে চেয়েছিলেন। ‘হ্যান্ড অফ গড’ কিংবা 'গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি দিয়ে বিশ্বকাপ জিতিয়ে দেশের মানুষকে দেয়া কথা রেখেছেন।
১৯৯০-এর সেমিফাইনালে ইতালির মানুষকে ক্ষেপিয়ে দিয়েছিলেন নিজ দেশের বিরুদ্ধে। তবে ফাইনালে দেখেছেন লালকার্ড। ১৯৯৪ এ ড্রাগ সেবনে হয়েছেন নিষিদ্ধ। তবে এতসব নেতিবাচকের ভিড়েও ম্যারাডোনা এখনও মুগ্ধতার নাম।
আরও পড়ুন:
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের বাজির ঘোড়া ব্রাজিল। কিন্তু জিনেদিন জিদান থাকতে স্বাগতিক ফ্রান্সকে কাঁদায় এমন সাধ্য কার? দুটো হেড, দুটো গোল। জাঁ ফন্তেইন, মিশেল প্লাতিনিদের দেশ প্রথমবার পেয়ে যায় শ্রেষ্ঠত্ব। কিংবদন্তি হয়েই অবসরে গিয়েছিলেন। তবে ২০০৬ বিশ্বকাপে দলের দুরবস্থায় আবার ফেরেন জিজু; গিয়েছিলেন ফাইনালে। তবে এবার জিদানের মাথা হলো ভিলেন। মাতারাজ্জিকে ঢুস দিয়ে হয়ত ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটাও মিইয়ে দিয়েছিলেন সেদিন।
গোলের খেলা ফুটবলে অনন্য এক শিল্পী মিরোস্লাভ ক্লোসা। একবার রানার-আপ, দুবার তৃতীয়। ২০১৪ বিশ্বকাপে ক্লোসা গিয়েছিলেন ২ গোলের অপেক্ষা নিয়ে, সেটা ঘটেছিল সেমিফাইনালে, হয়েছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। পরে ফাইনালে জিতেছেন সোনালি ট্রফিও।
নামের পাশে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশিবার ব্যক্তিগত সাফল্যের কীর্তি। ক্যারিয়ারের কোনো গল্পেই লিওনেল মেসিকে হারতে হয়নি ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে। তবে সর্বকালের সেরার বিতর্কে লিওনেল মেসি পিছিয়ে ছিলেন বিশ্বকাপ শিরোপা না পেয়ে।
এরপর কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ঘুচলো সেই আক্ষেপ, যেন মুছে গেলো সব ধরনের বিতর্ক— এর মধ্য দিয়েই সমালোচকরা পেয়েছিলো জবাব।
ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ফাইনাল আর টাইব্রেকার। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে দুইবার বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল। তবে সব ছাপিয়ে মেসির নামের পাশে বসলো বিশ্বকাপ। সেদিন এমবাপ্পের অতিমানবীয় ও একচ্ছত্র পারফরম্যান্সের সেই হ্যাটট্রিকও মেসিকে শিরোপার ছোঁয়া থেকে দূরে রাখতে পারেনি। এক প্রজন্ম কিংবা গ্রহের সেরা থেকে মেসিকে সর্বকালের সেরা বানিয়েছিল সোনালি এই বিশ্বকাপ।





