রাসেল মাহমুদ জিমি। দেশের হকির সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। ঝিমিয়ে পড়া খেলাটায় পারফর্ম করে লম্বা সময় লাইম লাইটে ৩৭ বছর বয়সী খেলোয়াড়।
তবে ঠুনকো এক অজুহাতে ছোট খেলাটির বড় তারকাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে ফেডারেশন। বয়স ৩২ এর বেশি হওয়ায় নাকি জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা হারিয়েছেন তিনি।
আসন্ন এএইচএফ কাপকে সামনে রেখে ২০ ফেব্রুয়ারি ৫৭ জন খেলোয়াড়ের একটা পরীক্ষা নিয়েছে দেশের হকির নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সেখানে রাখা হয়নি জিমিকে। যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে অনেক।
জিমিকে বাদ দেয়ার কারণ জানতে চেয়ে ফেডারেশনকে চিঠিও দিয়েছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তবে, আগের সিদ্ধান্তে অনড় ফেডারেশনটি।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত রিয়াজুল হাসান বলেন, বর্তমানে ওয়ার্ল্ডে ৩৫ বছর বয়সী খেলোয়াড়রা মাস্টার্সে খেলে। জিনিসটা বোঝার চেষ্টা করেন। তার বয়স ৩৫ হয়ে গেছে, সে রেগুলার খেলে ছেড়ে দিয়েছে। আমাদের ক্যাম্প শুরু হয়ে গেছে। এখন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত কি না সেটা আপনারা বুঝেন।’
অদ্ভুতুড়ে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে জিমির ২২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এখানেই ইতি ঘটছে নিশ্চিতভাবেই। তাতে দেশের হকির নক্ষত্রের বিদায়টা যে সুখকর হবে না, তা বলাই যায়।
কারণ, এপ্রিলে হতে যাওয়া এএইচএফ কাপে লাল-সবুজ জার্সিতে দেখা যাবে না তাকে। যে কারণে মাঠ থেকে অবসর নেয়া হচ্ছে না তার।
ইন্দোনেশিয়ায় হতে যাওয়া টুর্নামেন্টকে ঘিরে ৪৫ জনের ক্যাম্প শুরু হয়ে গেছে এরইমধ্যে। যদিও, টুর্নামেন্টে অংশ নিতে এখনও পর্যাপ্ত অর্থের ব্যবস্থা করতে পারেনি ফেডারেশন।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত রিয়াজুল হাসান বলেন, সত্যি কথা বলতে যদি জিজ্ঞাসা করেন টিকেটের টাকা আছে কি না, না নেই। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন টাকা কোথায় পাবেন, চেষ্টা চলছে। উপরে আল্লাহ নীচে আমাদের চেষ্টা চলছে।’
তবে, নারীদের হকি নিয়ে সুখবর দিলেন ফেডারেশন কর্তা।
তিনি বলেন, ‘আগামী মাসে ইন শা আল্লাহ ওমেন্স ডেভেলপমেন্ট কাপ হবে। এখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মেয়েদের দশটি দল আসছে খেলতে।’
নারীদের নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করলেও সূচি চূড়ান্ত করেনি ফেডারেশন।