জাতীয় অ্যাথলেটিকসে বাহিনীর আধিপত্য, পিছিয়ে জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়

অন্য সব খেলা
এখন মাঠে
0

জাতীয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় পদকের লড়াইয়ে বাহিনীর চেয়ে বরাবরই পিছিয়ে জেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সংস্থার অ্যাথলেটরা। শুধু ৪৮তম আসরে পদকের তালিকা নয়, বিগত কয়েক বছরে দ্রুততম মানব-মানবীর খেতাবও জিতেছে বাহিনীর অ্যাথলেটরা। এজন্য সুযোগ সুবিধার অভাবকেই কারণ বলছেন অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা।

৪৮তম অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় বাহিনীর অ্যাথলেটদের জয়জয়কার। ৪০০ মিটার ১৫০০ মিটারসহ বাকি ইভেন্টগুলোর বেশিরভাগ পদকই হয় সেনাবাহিনীর নয়তো নৌবাহিনীর ঝুলিতে। এমনকি দ্রুততম মানব মানবীর খেতাবও জিতেছে নৌবাহিনী। তবে আসরে জেলা এবং বিশ্ববিদ্যায়গুলোর অ্যাথলেটদের কি শুধুই অংশগ্রহণ। এর উত্তর খুঁজবো এই প্রতিবেদনে।

মাদার অব স্পোর্টস বলা হয় অ্যাথলেটিক্সকে। প্রতিবছরই জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় দেশের ফেডারেশেনের সঙ্গে দেশব্যাপী প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ যোগ করে ভিন্নমাত্রা। তবে আসরে অংশগ্রহণ করলেও বাহিনীর বিপক্ষে লড়াই করে প্রতিবারই পদক ছাড়া ঘরে ফেরার গল্প আছে অনেক।

গোপালগঞ্জের মেয়ে ইকমা। খুলনার হয়ে সদ্য শেষ হওয়া আসরে চারটির বেশি ইভেন্ট খেললেও একটিও স্বর্ণ পদক পাননি। তার মতই এমন অনেক হতাশার গল্প আছে জেলা এবং সংস্থা থেকে আগত অ্যাথলেটদের। এর কারণ হিসেবে সুযোগ সুবিধার অপ্রতুলতাকে দুষছেন এই অ্যাথলেটরা।

ইকমা বলেন, 'আমাদের যদি সহযোগিতা করা হয় তাহলে বাহিনীদের সাথে ভালো করতে পারতাম।'

আরেকজন অ্যাথলেট বলেন, ‘জেলা থেকে অল্পকিছু দেয়। ওইভাবে আমরা সুযোগ সুবিধা পায় না।’

সাবেক অ্যাথলেট ড. মঈন উদদীন আহমদ বলেন, ‘জেলা পর্যায়ে এমন কোনো সুযোগ সুবিধা নেই। কোনো ট্রাক নেই। শুধু খালি মাঠে দৌড়ে প্রশিক্ষণ করা সম্ভব না।’

আসরে স্বর্ণ, রুপা এবং ব্রোঞ্জ পদকের দিক দিয়ে এগিয়ে নৌবাহিনী। দ্বিতীয় অবস্থানে সেনাবাহিনী। তৃতীয় অবস্থানে দেশের ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি। এমনকি গেল ছয় বছর দেশের দ্রুততম মানব মানবীর খেতাবও এই দুই বাহিনীর ঝুলিতে। পদকের দৌড়ে বাহিনীর অ্যাথলেটদের এগিয়ে থাকার কারণ জানালেন নৌবাহিনীর কোচ।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কোচ ইমরান ভুইয়া বলেন, আমাদের প্লেয়ার বাছাই করে নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী নিয়ে আসে। এরপর তাদের ট্রেনিং করাই। যার ফলে ভালো করে।

নৌবাহিনী অ্যাথলেট বলেন, ‘নৌবাহিনীতে যখন থাকি তখন আমাদের আর্মি স্টেডিয়াম ও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে পারমিশন নিয়ে আমরা অনুশীলন করি।’

এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথও খুঁজছেন আয়োজক এবং ফেডারেশন কর্তারা।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, ‘প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অ্যাথলেটদের বাছাই করে ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে ভালো রেজাল্ট করতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থা করছি।’

সুযোগ সুবিধার অভাবে দেশের বাহিনীর বাইরে অ্যাথলেটরা পিছিয়ে পড়ায় বিশ্ব-দরবারে অর্জনের খাতায় হতাশার চিত্র বেশি ফুটে উঠে বাংলাদেশের।

ইএ