মাঠে বল গড়ানোর আগেই উত্তাপ; ঘরোয়া ফুটবলে ক্লাব বিভক্তি

ফুটবল
ফুটবল | ছবি : সংগৃহীত
0

মাঠে বল গড়ানোর আগেই মাঠের বাইরে উত্তাপ। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, তা নিয়ে ক্লাবগুলোর মধ্যে এখন স্পষ্ট বিভক্তি। ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ও মোহামেডানসহ বেশ কিছু ক্লাব সূচি পেছানোর দাবি জানালেও, আর্থিক লোকসানের শঙ্কায় তীব্র বিরোধিতা করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস, ফর্টিস এফসিসহ কয়েকটি ক্লাব।

দ্বিতীয় দফা ঘরোয়া মৌসুমের সূচি পিছিয়ে নভেম্বরে করার দাবিতে একট্টা হয়েছে আবাহনী-মোহামেডানসহ বেশ কয়েকটি ক্লাব। এরই মধ্যে লিগ পেছাতে বাফুফে বরাবর চিঠিও দিয়েছে তারা। যেখানে স্বাক্ষর করেছেন অংশগ্রহণকারী ১৩ দলের মধ্যে ৯টি ক্লাব। যদিও ওয়ান্ডারার্স দাবি করেছে, চিঠিতে তাদের স্বাক্ষর জালিয়াত করা হয়েছে।

আবাহনী-মোহামেডানের যুক্তি, দলের বেশিরভাগ ফুটবলার জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকায় পূর্ণশক্তির দল নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ নেই তাদের। ফকিরেরপুল-আরামবাগের মতো ক্লাবগুলোতে জাতীয় দলের খেলোয়াড় না থাকলেও, শীর্ষ ক্লাবগুলোর সঙ্গে একমত তারাও।

ফকিরেরপুল ইয়াংমেন্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী বলেন, ‘সব ক্লাব যদি একত্রে যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আছি। যদি টাইমটা হয়, লিগটা পিছায়, তাহলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’

আরও পড়ুন

আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমরা তো সময় চাচ্ছিলাম। এখন তো আমাদের প্র্যাকটিসই আরম্ভ হয় নাই। আমাদের তো এখনও কনফার্ম যে হবে, আমাদের টিম মাত্রই করলাম। আমরা একটু আমরা চাচ্ছি একটু সময় নিয়ে করতে।’

তবে এ যুক্তির সঙ্গে একেবারেই একমত নয় বসুন্ধরা কিংস, ফর্টিস এফসি এবং ওয়ান্ডারার্স ক্লাব। কারণ এরই মধ্যে ক্লাবগুলো তাদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন বিদেশি খেলোয়াড়রাও। নির্ধারিত সময়ে লিগ না হলে তাদেরকে পড়তে হবে বিশাল অংকের আর্থিক লোকসানে।

ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন জুয়েল বলেন, ‘১৮ তারিখে যদি খেলা শুরু না হয়, তাহলে আমরা অনেক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হব। আমাদের তো প্রতি মাসে প্লেয়ারদের পেমেন্ট দিয়ে যেতে হবে। তাদের তো আর এটা আমরা বন্ধ রাখতে পারব না। সে হিসেবে আমাদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে, আপনার ১ কোটি টাকার উপরে হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন

বসুন্ধরা কিংসের সহকারী কোচ মাহবুব হোসেন রক্সি বলেন, ‘আমরা খেলতে চাই। আমরা অরিজিনালি আমরা এটা প্রথম থেকেই এবং লিগ যেভাবে, ফেডারেশন যেভাবে চাচ্ছে আমরা সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা অলরেডি প্র্যাকটিস শুরু করেছি এবং আমরা খেলতে চাই অন টাইমে।’

সদ্য ফিফা নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা বসুন্ধরা কিংসসহ সীমিত বাজেটের ক্লাবগুলোর জন্য সূচি পেছানোর দাবি যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। বারংবার সময় পেছালে চুক্তি করা বিদেশি ফুটবলারদের বেতনসহ দীর্ঘমেয়াদে ক্যাম্প চালানো তাদের পক্ষে বড় ধাক্কা। ক্লাবগুলোর এ মুখোমুখি অবস্থানের কারণে এখন সব নজর বাফুফের লিগ কমিটির সিদ্ধান্তের দিকে।

বাফুফের লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্ট আছে, আমাদের প্রফেশনাল লিগ কমিটি আছে, আমাদের ইসি কমিটি আছে। যদি মনে করি পেছাতে হবে, তাহলে ক্লাবকে আমরা ডাকব, মিটিং করব, তারপর আমরা ডিসিশন নেব। কিন্তু আপাতত আমাদের ১৮ এবং ২২ তারিখ শিডিউলটা এখন পর্যন্ত ঠিক আছে।’

শেষ পর্যন্ত সব ক্লাবের স্বার্থ রক্ষা করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান নাকি মাঠের লড়াই শুরুর আগেই টেবিলের লড়াইয়ে উত্তপ্ত থাকবে দেশের ফুটবল অঙ্গন?

জেআর