বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক ওবেলিস্কের ছায়াতলে এই প্রবীণ শহরটি যেন আজ থমকে আছে এক নীরব ভালোবাসায়। দেয়ালে আঁকা ক্যানভাসের এই মানুষটি যে বছরের পর বছর কোটি মানুষকে ভাসিয়েছেন আনন্দের বন্যায়, দেশের জার্সিতে তিনি আর কখনো বল পায়ে ছুটবেন না— এই তিক্ত সত্যিটা মানতে পারাটা যে বড্ড কঠিন।
মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন। এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচের টিকিট সংগ্রহের লড়াই নয়, এটি লিওকে দেশের জার্সিতে শেষবারের মতো দেখার এক অন্তিম আকুলতা।
এক ভক্ত বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি এমন মুহূর্ত আসবে, মেসির বিদায় দেখতে হবে। সে তো আমাদের সবকিছুই দিয়ে ফেলেছে, তার কাছে আর কিছু চাওয়ার নেই।’
যাকে ভালোবেসে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন সত্যি হতে দেখেছে একটি জাতি, তাকে বিদায় জানানোর যন্ত্রণা সয়ে নেয়া যে বড্ড কঠিন। তাইতো চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না প্রবীণ সমর্থক ভিভিয়ানা ব্রুন।
আরও পড়ুন:
অশ্রুসিক্ত ভিভিয়ানা বলেন, ‘আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাকে শেষবার দেখা। সত্যি বলছি, এটা বুক ফেটে যাওয়ার মতো কষ্ট। তবু আমি তার স্মরণীয় বিদায়টুকু চোখের জলে বরণ করতে এসেছি।’
আকাশি-সাদা জার্সির এই জাদুকরকে কাছে পাওয়ার অনুভূতিতে আর্জেন্টিনায় বসবাসরত ভেনেজুয়েলা নাগরিকের চোখও আজ জলে ভেজা।
ভেনেজুয়েলার এ নাগরিক বলেন, ‘যখন মেসি ওয়ার্মআপে নামবে আর জাতীয় সংগীত বাজবে, জানি না নিজেকে ধরে রাখতে পারবো কি না। আমার মনে হয় আমি কেঁদে ফেলবো। হয়তো আর কখনোই তাকে আমাদের চোখের সামনে এভাবে দেখতে পাবো না।’
রোজারিওর গলি থেকে শুরু হওয়া মহাকাব্য থামছে এই বিদায়ী মঞ্চে। রাজ সিংহাসন হয়তো খালি হবে, তবে আকাশি-সাদা প্রেমে লিওনেল মেসির নাম খোদাই থাকবে ফুটবলের প্রতিটি হৃদস্পন্দনে।





