যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর (USA, Canada and Mexico) যৌথ আয়োজনে চলা এই টুর্নামেন্টের শেষ দুটি মহারণের আগে সাতজন খেলোয়াড় ৫ বা তার বেশি গোল করে রেসে টিকে আছেন। আজ শনিবারের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স (England vs disappearance match)। আর এর ঠিক পরের দিন রোববারের মেগা ফাইনালে ট্রফির লড়াইয়ে নামবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা (Argentina vs Spain final)। গোল্ডেন বুটের রোমাঞ্চকর সমীকরণ ও ইতিহাস নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো (Will 3rd place match goals decide the World Cup 2026 Golden Boot winner: FIFA rules and stats):
আরও পড়ুন:
গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে কার অবস্থান কোথায়? (World Cup 2026 top scorers list and statistics)
এবারের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি অন্তত চারজন খেলোয়াড়ের চোখে প্রোমোশন পাওয়ার বড় সুযোগ। কারণ, এই ম্যাচের গোল টুর্নামেন্টের মোট গোলসংখ্যায় যোগ হয়।
- যৌথভাবে শীর্ষে মেসি-এমবাপ্পে: টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যৌথভাবে সবার ওপরে আছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে (Lionel Messi and Kylian Mbappe goals)। দুজনেরই গোল ৮টি করে। তবে একটি বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় আপাতত টাইব্রেকারে এগিয়ে আছেন মেসি।
- হালান্ডের দৌড় শেষ: নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের গোল ৭টি (Erling Haaland world cup goals)। তবে কোয়ার্টার ফাইনালেই তাঁর দল বিদায় নেওয়ায় আর গোল বাড়ানোর সুযোগ নেই।
- পিছনে থাকা তারকাদের সুযোগ: ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের গোল ৬টি করে (Harry Kane and Jude Bellingham total goals)। ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবালের গোল ৫টি করে। তাই শনিবারের ইংল্যান্ড–ফ্রান্স ম্যাচটি শুধু তৃতীয় স্থান নির্ধারণের লড়াই নয়, গোল্ডেন বুটের ভাগ্যও অনেকটা নির্ধারণ করে দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
ইতিহাস যা বলছে: তৃতীয় স্থানের ম্যাচের ম্যাজিক (History of 3rd place match deciding the Golden Boot winner)
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ গোল্ডেন বুট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইতিহাসের সাতজন গোল্ডেন বুটজয়ী এই ম্যাচে গোল করেছিলেন।
- ম্যাচের গোলেই যারা জিতেছিলেন: জার্মানির টমাস মুলার (২০১০), ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকর (১৯ - ৯৮), ইতালির সালভাতোরে শিলাচি (১৯৯০) ও ব্রাজিলের লিওনিদাস (১৯৩৮) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলের সুবাদেই শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন (players who won golden boot from 3rd place match)।
- অন্যান্য গোলদাতার ইতিহাস: পোল্যান্ডের গ্রেজেগোর্জ লাতো (১৯৭৪), পর্তুগালের ইউসেবিও (১৯৬৬) ও ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনও (১৯৫৮) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেছিলেন, যদিও ওই গোল ছাড়াও তারা গোল্ডেন বুট জিততেন।
আরও পড়ুন:
টাইব্রেকারে গোল্ডেন বুট নির্ধারণের ফিফা নিয়ম (FIFA tie-breaker rules for World Cup Golden Boot)
নিয়মানুযায়ী, যদি একাধিক খেলোয়াড় সমান গোল করেন, তাহলে গোল্ডেন বুট নির্ধারণে ফিফার ক্রম হলো—
- ১. সর্বোচ্চ গোল (Most Goals): টুর্নামেন্টে মোট করা গোলসংখ্যা।
- ২. সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট (Most Assists): গোল করতে সতীর্থদের কতবার সাহায্য করেছেন।
- ৩. সবচেয়ে কম খেলার সময় (Least minutes played): কে কম মিনিট মাঠে খেলে সেই গোলগুলো করেছেন।
এই সমীকরণের কারণে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম এখনো গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে দারুণভাবে টিকে আছেন। আজকের ম্যাচে তারা গোল বাড়ালে, পরের দিন ফাইনালে নামার আগে মেসি স্পষ্ট জেনে যাবেন গোল্ডেন বুট নিজের করে নিতে তাকে ঠিক কী করতে হবে।
আরও পড়ুন:
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: গোল্ডেন বুটের শীর্ষ লড়াই
একনজরে: ৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগে শীর্ষ খেলোয়াড়দের গোল ও অ্যাসিস্টের তুলনামূলক চিত্র
লিওনেল মেসি
১ম স্থানে (টাইব্রেকারে এগিয়ে)
কিলিয়ান এমবাপ্পে
২য় স্থানে
আর্লিং হলান্ড
রেস থেকে বিদায়
হ্যারি কেইন / জুড বেলিংহ্যাম
৩য় স্থানে
উসমান দেম্বেলে (FRA) / মিকেল ওইয়ারসাবাল (SPA)
৪র্থ স্থানে
ফিফা গোল্ডেন বুট টাইব্রেকার নীতি: ১. সর্বোচ্চ গোল ➔ ২. সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট ➔ ৩. সবচেয়ে কম খেলার সময় (মিনিট)। ৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলও মূল তালিকায় যুক্ত হয়।
খেলোয়াড় (Player)
গোল (Goals)
অ্যাসিস্ট (Assists)
বর্তমান অবস্থা ও সুযোগ (Current Status)
(আর্জেন্টিনা)
৮
৪
(ফাইনাল ম্যাচ বাকি)
(ফ্রান্স)
৮
৩
(৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাকি)
(নরওয়ে)
৭
-
(কোয়ার্টার ফাইনালে দল বাদ পড়েছে)
(ইংল্যান্ড)
৬
-
(৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাকি)
৫
-
(দুজেরই ১টি করে ম্যাচ বাকি)




