মাঠের সবুজ ঘাসই ফুটবলারদের জন্য হওয়ার কথা সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার জায়গা। অথচ সেই মাঠেই আচ্ছন্ন ছিল মৃত্যুর ছায়া। স্প্যানিশ ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী রিপোর্টে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র।সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে একাধিক তারকা খেলোয়াড়ের উপর নাকি এসেছিল সরাসরি হত্যার হুমিক। ২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
আটলান্টায় আর্জেন্টিনা ও মিশর ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আততায়ী প্রকাশ্যে হুমকি দেয়-শরীরে চারটি বোমা বেঁধে স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে উড়িয়ে দেয়ার। শুধু তা-ই নয়, ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও বোমা নিয়ে খেলোয়াড়দের ওপর হামলার আগাম বার্তাও দেয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিক তৎপরতায় সম্ভাব্য এক বড় বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়।
আরও পড়ুন
মেসি যখন মৃত্যুর হুমকির মুখোমুখি, পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তখন ছিলেন লাগাতার হয়রানির শীর্ষে। হিউস্টনে রোনালদোর হোটেল কক্ষের বিশদ তথ্য জোগাড় করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে এক সন্দেহভাজন। টরন্টোতে আবার তার সঙ্গে জোরপূর্বক লিফটে ঢুকে পড়ে আরেক সমর্থক।
এছাড়া মিয়ামি থেকে শুরু করে ম্যাচের মাঝপথে মাঠে সমর্থক ঢুকে পড়ার ঘটনা রোনালদোর নিরাপত্তাকে বারবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
নিরাপত্তার এ ঝুঁকি কেবল মেসি বা রোনালদোতেই সীমাবদ্ধ ছিলো না। ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে শিকার হন উগ্র বর্ণবাদী আক্রমণের; এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পুতুল পোড়ানোর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ারের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয় ৬ হাজারেরও বেশি হুমকি বার্তা! বাধ্য হয়ে ফ্রান্সে তার পরিবারকে পুলিশি পাহারায় রাখা হয়।
খেলার মাঠে বিনোদন আর আবেগের পারদ যতই উঁচুতে উঠুক, আধুনিক ক্রীড়াবিশ্বে বিশ্বতারকাদের নিরাপত্তা এখন এক বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে। গোয়েন্দা তথ্যের সময়োপযোগী পদক্ষেপ বড় দুর্ঘটনা রুখে দিলেও, নিরাপত্তার এই ফাঁকফোকর ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টগুলোর জন্য রেখে গেল এক বড় সতর্কবার্তা





