দিনটি ছিলো মঙ্গলবার। কঙ্গোর আনাচে-কানাচে নেমে এসেছিলো জনতার ঢল। যেন পৃথিবীর সমস্ত খুশি এসে ধরা দিয়েছিলো আফ্রিকান দেশটির কাদামাখা রাস্তায়।
কঙ্গোর এমন খুশির কারণ এতোদিনে জেনে যাবার কথা ফুটবল ভক্তদের। দীর্ঘ ৫২ বছর পর দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার আনন্দ সেদিন মেক্সিকো থেকে উড়ে এসেছিলো দেশটিতে।
ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইয়ে গ্রুপপর্বে প্রথম থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলো কঙ্গো। ১০ ম্যাচের ৭টিতে জয় পেয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয় দেশটি। আন্তমহাদেশীয় প্লে অফে জ্যামাইকাকে শেষ মুহুর্তের নাটকীয়তায় হারায় কঙ্গো। অতিরিক্ত সময়ে গোল করে দেশটির মহানায়ক বনে গিয়েছিলেন কঙ্গোর সেন্টার ব্যাক অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে।
আরও পড়ুন:
এই দলে রয়েছে নজরকাড়া বেশ কয়েকজন ফুটবলার। দলের অধিনায়ক চ্যানছেল এমবেম্বার রয়েছে ইউরোপের নামিদামী ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা। নিউক্যাসেলের ফরোয়ার্ড ইউয়ানে উইসার মতো দ্রুতগতির ফরোয়ার্ড ও গোল করার দক্ষতা সম্পন্ন ফুটবলার আছে দলটিতে।
রিয়াল বেতিসে খেলা চেদরিক বাকাম্বুর ওপরও নজর থাকবে বিশ্বকাপে। বাছাইপর্বে নিয়মিত গোল পেয়েছেন এই সেন্টার ফরোয়ার্ড। থিও বঙ্গোন্ডা, ম্যাসচাক এলিয়ার মতো গতিশীল উইঙ্গাররা তো আছেনই। মাঝমাঠে রয়েছেন এডো কায়েম্বে যিনি গোল করা ও সহযোগিতায়ও সমানভাবে পারদর্শী।
কঙ্গোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে তাদের গ্রুপে থাকা অন্যদলগুলো। গ্রুপ 'কে' তে রয়েছে আসরের অন্যতম ফেবারিট দল পর্তুগাল। ফর্মে থাকা কলম্বিয়াও রয়েছে গ্রুপটিতে। অভিজ্ঞতার ঘাটটি থাকায় এই দুই দলের বিপক্ষে যথেষ্ট ভুগতে হতে পারে কঙ্গোকে। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিতে জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে কঙ্গো। যদিও মঞ্চটি বিশ্বকাপের তাই কেউ কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না এটাই স্বাভাবিক।
১৯৭৪ সালে যখন শেষ বার বিশ্বকাপ খেলেছিলো তখন কঙ্গোর নাম ছিলো জায়ারে। শুধু তাই নয় দেশটির অধিকাংশ মানুষের কাছে এই বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে জীবদ্দশায় নিজের দেশকে প্রথমবার কোনো বিশ্বকাপ খেলতে দেখা। তাই এবারের বিশ্বকাপ এই তাদের জন্য বিশেষ।





