বিপ্লব ভট্টাচার্যের হাত ধরে সাফল্যের পথে বয়সভিত্তিক দলের গোলরক্ষকরা

বিপ্লব ভট্টাচার্য
বিপ্লব ভট্টাচার্য | ছবি: এখন টিভি
0

সাবেক সাফ জয়ী ফুটবলার ও অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্য। তার হাত ধরেই একের পর এক সাফল্যের দেখা পাচ্ছে দেশের বয়সভিত্তিক দলের গোলরক্ষকরা। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে রুখে দেওয়ার নায়ক ইসমাইল হোসেন মাহিন। দক্ষিণ এশিয়ার সেরা এই গোলরক্ষকসহ অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে ঝলক দেখানো রুপ্না চাকমা, মিলি আক্তারদের বয়সভিত্তিক দল থেকেই গড়ে তুলেছেন বিপ্লব ভট্টাচার্য।

শিষ্যদের সাফল্যের গর্বিত এই কোচ। পেনাল্টি শুট আউটের সময় মাহিনের দক্ষতার পেছনের কারণও জানান তিনি।

অনূর্ধ্ব-২০ দলের গোলরক্ষক কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘ও যখন বিকেএসপিতে তখন আমরা ফাইন্ড আউট করি এলিট অ্যাকাডেমিতে, বাছাই করি। তখন থেকেই মাহিন আমার আন্ডারে। আমার আন্ডারে মাহিন প্রায় দুই বছর কাজ করেছে। পেনাল্টির আগে যখন ৯০ মিনিট খেলা শেষ হলো আমি আলাদা করে মাহিনকে ডেকে নিয়েছি, তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছি। শুধু একটা কথাই বলেছি বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের জন্য খেলছো।’

প্রবাসী ফুটবলারদের সাথে বাকিদের দ্বন্দ্বের অভিযোগটা উড়িয়ে দেন তিনি। এছাড়া সাফ জয়ের পেছনে বড় অবদান ছিলো প্রবাসী দর্শকদের। তাদেরকেও কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি তিনি।

বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা মনে করি মালদ্বীপে খেলি নি। আমরা বাংলাদেশে খেলেছি। আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা যেভাবে আমাদের টিমকে সাপোর্ট করেছে এবং মালদ্বীপের সাপোর্টররাও কিন্তু মালদ্বীপকে সেভাবে সাপোর্ট করতে পারে নি।’

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশের হয়ে এসএ গেমসে স্বর্ন জিতেছেন, ২০০৩ এ জিতেছেন সাফ শিরোপা। লাল সবুজের হয়ে সগৌরবে ১৬ বছর প্রতিনিধিত্ব করলেও কখনো কখনো ভক্তদের থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাকে। এ নিয়ে যদিও আক্ষেপ নেই তার।

কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরেই গ্যালারি থেকে সাথে সাথে যারা ওইদিন আমাকে গালি দিয়েছিলো, বুলিং করেছিলো তারা আমার কাছে এসে ক্ষমা চেয়েছে। আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি, বুকে জড়িয়ে ধরেছি। আমি তাদের বলেছি আপনারা বাংলাদেশের জন্য আবেগ দেখিয়েছেন। সুতরাং এগুলো আমাদের ভুলে যেতে হবে। আমরা বাংলাদেশী। বাংলাদেশের জন্য অনেকসময় অনেক কথা বলে। এগুলো মনে রাখতে নেই।’

এর আগে ২০২১-২২ সালে বাফুফের হয়ে কাজ করার সময়ে ভবিষ্যতের তারকাদের তৈরি করেছিলেন তর্ক সাপেক্ষে দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক। এবারে তার লক্ষ্য শুধু দক্ষিণ এশিয়া না বিশ্বমানের গোলরক্ষক তৈরি করা।

ইএ