‘ভুয়া’ কোচ নিয়ে সাফে যাচ্ছে বাংলাদেশ; বাফুফে বলছে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা

মার্ক কক্স, সার্টিফিকেট জালিয়াতি
মার্ক কক্স, সার্টিফিকেট জালিয়াতি | ছবি: এখন টিভি
1

‘ভুয়া’ কোচ নিয়ে সাফ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ! সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নিয়েছেন আইরিশ কোচ মার্ক কক্স। নিজেকে উয়েফা প্রো লাইসেন্সধারী কোচ দাবি করলেও, নিজের জমা দেয়া জীবনবৃত্তান্তেই নানা ফাঁকফোকর রেখে দিয়েছেন কক্স। বাফুফে বলছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চলতি মাসের শুরুতে মার্ক কক্সকে পরিচয় করিয়ে দেন বাফুফে কর্তারা। উয়েফা প্রো লাইসেন্সধারী কোচ, বিখ্যাত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে কাজ করার অভিজ্ঞতা, সবমিলিয়ে বেশ হাইপ্রোফাইল একজন। তবে এত বড় কোচ কেন মাত্র এক মাসের চুক্তিতে বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলের দায়িত্ব নিলেন?

প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ‘এখন টিভি’ পেয়ে যায় তার জীবনবৃত্তান্ত। যেখানে ফিফা, উয়েফাসহ বেশ কয়েকটি সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে কখন কোথায় কীভাবে এসব সংস্থায় তিনি কাজ করেছেন সেটির উল্লেখ নেই।

নিজের সনদপত্র নিয়ে নিজেই যেন দ্বিধান্বিত কক্স। কোথাও লিখেছেন উয়েফা প্রো লাইসেন্সড কোচ, কোথাও লিখেছেন উয়েফা প্রো লাইসেন্স ফার্স্ট ইয়ার। প্রো লাইসেন্স শেষ করেননি অথচ তার নামে আছে সার্টিফিকেট! আবার ‘এ’ লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে গত বছরই।

আরও পড়ুন:

সাবেক ফুটবলার জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘একজন মেধাবী কোচ কখনো একটা দেশে একমাসের জন্য কন্ট্রাক্টেড হবে না। তার প্রোফাইল যেটা বলছে, তাতে এ ধরনের কোচ কোথাও কখনো এক মাসের জন্য কোনো দেশের সঙ্গেই সে কন্ট্রাক্টেড হবে না। এখানেই আমার কাছে মনে হয় যে, কোনো ফাঁকফোকর রয়েছে বা কোনো সমস্যা হয়তো এখানেই দেখা দিতে পারে। অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে দেখা উচিত।’

গোঁজামিলে ভরা এমন জীবনবৃত্তান্ত দেখেও মার্ক কক্সকে নিয়োগ দিয়েছে বাফুফে। পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছেন বয়সভিত্তিক দলে টিম ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করা সামিদ কাশেম। বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটিতে সাঈদ হাসান কানন, শফিকুল ইসলাম মানিকসহ বেশ কয়েকজন সাবেক তারকা ফুটবলার থাকলেও, মার্ক কক্সকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে তাদের জানাশোনা ছিল যৎসামান্য।

বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, কখনও ফুটবল না খেললেও, কোচ নিয়োগের যাচাই-বাছাই থেকে ইন্টারভিউ বোর্ড, সবখানেই ছিলেন সামিদ কাশেম। এই এখতিয়ার তার আছে কি না, জানতে চাওয়া হয় সাবেক অধিনায়ক এমিলির কাছে।

জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘একজন ম্যানেজার তো আসলে কোচের ইন্টারভিউ নিয়ে সরাসরি নিয়োগ দিতে পারবে না। কোনো ওয়ে নেই। এটা তো কখনো হতে পারে না। প্রসেসটা হওয়া উচিত এমন, বাংলাদেশের যারা ইয়ার লেভেলে ফুটবল খেলেছে, যাদের টেকনিক্যালি ভালো ধারণা রয়েছে তাদের মাধ্যমে কোচ নিয়োগ দেয়াটা সব থেকে ফলপ্রসু হবে বলে আমি মনে করি। কারণ কোচ হলে মেইন ফ্যাক্ট।’

আরও পড়ুন:

তবে কক্সের সার্টিফিকেট কিংবা সিভি কোথাও ফাঁকফোকর খুঁজে পাননি সামিদ কাশেম। তাকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে নিজের ভূমিকার কথাও অকপটে স্বীকার করলেন তিনি।

সামিদ কাসেম বলেন, ‘এটার জন্য একটা ডিপ্লোমা আছে, সেটা উনি করেছে। এটা নিয়ে আমাদের কোনো দিনও কোনো ডাউট ছিল না। আমরা ওইটা জেনেই উনাকে হায়ার করেছি। ওই তথ্যটাও তো আমরা বলেছি সবাইকে।’

মার্ক কক্স কেবল নিজের সার্টিফিকেটই জাল করেননি। সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকজনকেও ভুয়া সার্টিফিকেট বানিয়ে দিচ্ছেন। যার একজন ইকবাল হোসেন ইমন। কক্সের স্বাক্ষর করা ‘বি’ লাইসেন্স কোচ ব্যবহার করছেন তিনি। অথচ এ ধরনের কোন সার্টিফিকেট দেয়ার সুযোগই নেই মার্ক কক্সের। বাফুফে বলছে, আইরিশ এই কোচের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেবে তারা।

বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, ‘বাফুফের কোনো প্রসেসে কেউ যদি কোনো ফল্ট করে তার বিরুদ্ধে তো ফিফা রুলও আছে, বাফুফে বুলও থাকবে কী অ্যাকশন নেয়া হবে। আমার জানা নেই আবারও বলতে চাই। কিন্তু কোনো ধরনের অভিযোগের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবেই। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

মার্ক কক্সকে বাংলাদেশে খণ্ডকালীন কোচিংয়ের সুযোগ করে দিয়ে প্রথমবার তার প্রোফাইলে কোনো দেশের নাম যুক্ত করার সুযোগ করে দেয়া হলো কাদের ইশারায়, সেটি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেকরা।

এসএস