নেপালে গোল করে গ্যালারি-ভর্তি দর্শককে চুপ করিয়েছেন, মিয়ানমারের বিপক্ষে দর্শনীয় এক গোল করে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছেন এশিয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে।
ঋতুপর্ণা যেন বড় ম্যাচের বড় তারকা। গেলো কয়েকদিন ধরেই সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে বারবার নিজের নাম জড়িয়েছেন তিনি। বাফুফে কর্তা মাহফুজা আক্তার কিরণ অবশ্য সরাসরি-ই করেছেন এমন মন্তব্য।
বাফুফে নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেন, ‘আমি মেসির সঙ্গে রিতুর তুলনা করবো না, শুধু এতটুকু বলতে পারবো, সে হচ্ছে বাংলাদেশের মেসি। এটা বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে হামজা অনেক ভালো ফুটবলার। সে আমাদের দেশের জন্য গর্বের। আমার বিশ্বাস সে সামনে আরো ভালো করবে।’
তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে সেই আলাপটাই আবার নতুন করে সামনে আনলেন রিতু। কর্নার থেকে বল পেয়ে যেভাবে বলকে জালের ঠিকানায় পাঠিয়েছেন ঋতুপর্ণা সেটার সঙ্গে চাইলেই লিওনেল মেসির ২০১৪ সালে ইরানের বিপক্ষে করা গোলটাকে মিলিয়ে নিতে পারেন অনেকে।
ডি-বক্সে থাকা জটলার ওপর দিয়ে বলকে পাঠিয়েছিলেন জালে। গোলরক্ষকদের পক্ষে ওমন একটা শট ঠেকানোটাও বেশ কষ্টসাধ্য কাজই বটে। ঋতুপর্ণা এর আগেও বহুবারই নিজের সক্ষমতার জানান দিয়েছেন। নতুন করে কেবল আবার জানান দিলেন, নারী ফুটবলে সময়টা এখন তার।
অথচ কয়েকদিন আগেও কোচ পিটার বাটলারের গুডবুক থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা। নারী ফুটবলে বিদ্রোহের যে সুর বেজেছিল, সেখানে ছিলেন ঋতুপর্ণা নিজেও। সইতে হয়েছে সমালোচনার নেতিবাচক বাক্যটাও।
কিন্তু সব কিছু পেছনে ফেলে বাংলাদেশের নাম্বার সেভেনটিন ফিরেছেন, সেইসঙ্গে একাধিক সিনিয়র না থাকা দলটায় এনে দিয়েছেন সাফল্য। ঠিক যেমনটা মেসি পেয়েছিলেন তার অবসর ভেঙ্গে মাঠে ফেরার দিনগুলোতে।
ঋতুপর্ণা আবার বুঝিয়ে দিয়েছেন, মনোযোগ মাঠে ধরে রাখলে তার পক্ষেও করা সম্ভব বড় কিছু। ৩ ম্যাচে করেছেন ৫ গোল। দেশকে প্রথমবার নিয়ে গেলেন এশিয়ান কাপে।
মেসি নিজের দেশের শিরোপাখরা দূর করেছিলেন ২৮ বছর পর। ঋতুপর্ণার জন্য তেমন এক শিরোপার চিত্রনাট্য লেখার কাজ কঠিন। কিন্তু স্বপ্ন আর বাস্তবতার মিশেলে ঋতুপর্ণা যে গল্পটা লিখেছেন বিগত কয়েকদিনে, সেটাকে হয়তো পিছিয়ে রাখবে না কেউ।





 and after images of the Betrawati area in Nepal-320x167.webp)