নিয়ম বদলের এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটটা আগে জেনে নেয়া দরকার। বাণিজ্যিক ভাবনা থেকে ক্রিকেটকে রীতিমতো রান উৎসবের খেলা বানিয়ে দেয়া হচ্ছে। তাতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন ব্যাটাররা। আর বোলাররা হয়ে উঠছেন মার খাওয়ার পুতুল। ক্রিকেট নিয়ে এমন অভিযোগের ফিরিস্তি জমা দিয়েছেন বহু কিংবদন্তি। বিশেষ করে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের প্রবর্তন আর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিশ্বায়নের পর থেকে ক্রিকেট কেবলই একতরফা ব্যাটারদের খেলা হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ।
এসবের মধ্যেই গেলো বছর জুলাইয়ে নতুন এক নিয়ম চালু করে আইসিসি। ওয়ানডেতে ৩৪ ওভার পর্যন্ত দুই পাশ থেকে দু’টি বল ব্যবহার করা গেলেও, শেষ ১৬ ওভারে অধিনায়ক চাইলে একটি বল ব্যবহার করতে পারবেন। এতে করে অপেক্ষাকৃত পুরনো এবং আঁচড়যুক্ত বলটাই বেছে নেন অধিনায়করা। তাতে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে রিভার্স সুইং। কমেছে স্লগ ওভারে রান তোলার গতি।
আরও পড়ুন:
এই নিয়ম চালুর পর থেকে শেষ ৫ ওভারে পেসারদের ইকোনমি রেট একলাফে ৮ দশমিক ৪০ থেকে নেমে এসেছে ৭ দশমিক ৯৫-এ। আলজারি জোসেফ, লুঙ্গি এনগিদি থেকে বাংলাদেশের মুস্তাফিজ-তাসকিনরাও শেষদিকের ওভারগুলোতে বাড়িয়েছেন বলে সুইংয়ের হার। তাতে বোলিং গড় আর ইকোনমি রেটেও এসেছে পরিবর্তন।
পেসারদের বাড়তি সুবিধার ফলে শেষ দশ ওভারে রান তোলার গতি কমেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোর। ফিনিশিং দুর্বলতায় স্লগ ওভারে রান তোলায় সবার চেয়ে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের রান তোলার গতি কমেছে আরও। তবে ইংল্যান্ড এবং ভারতীয় ব্যাটাররা ঠিকই পেসারদের ছোঁড়া রিভার্স সুইং সামলে রান তোলার গতি বাড়িয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছর অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপে বড় প্রভাবক হয়ে উঠবে পুরনো বল ব্যবহারের এই নিয়ম। তাতে আগাম সতর্ক হয়ে স্লগ ওভারের আগেই স্কোরবোর্ডে মোটা অঙ্কের রান তুলে রাখার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে ব্যাটারদের।





