ক্রিকেট বিশ্বে এখনও এমন বহু ক্রিকেটার আছেন, যাদের কাছে জাতীয় দলের টুপিটা যেকোনো কিছুর চেয়েও মূল্যবান। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী ওয়েস্ট ইন্ডিজের এক চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার যখন জাতীয় দলের ডাক পেয়েও মুখ ফিরিয়ে নেন, তখন প্রশ্ন ওঠে নিয়মনীতি আর মানসিকতা নিয়ে।
২৯ বছর বয়সী পেসার আলজারি জোসেফকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠের টেস্ট সিরিজের জন্য স্কোয়াডে রেখেছিল টিম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু সিরিজের ঠিক আগের দিন কোচ ড্যারেন স্যামি যা জানালেন, তা শুনে হতবাক ক্রিকেট বিশ্ব।
ড্যারেন স্যামি বলেন, ‘জোসেফ খেলছেন না, ওকে না পাওয়াটা আমাদের জন্য বড় ক্ষতি। কিন্তু বাস্তবতা হলো জোসেফ নিজেই এটা প্রত্যাখ্যান করেছে। ওকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছিল, ও চোট থেকে ফিরেছে। তবে পরবর্তীতে কিছু কারণে ও খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়রা কীভাবে দলের ডাক প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ পায়, তা আমি জানি না। বিষয়টি বোর্ডের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।’
আরও পড়ুন:
পেসার হিসেবে আলজারি জোসেফের না থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য যেমন মাঠের বড় ক্ষতি, তার চেয়েও বড় আঘাত তাদের ক্রিকেট সংস্কৃতির মূলে। এক সময়ের বিশ্ব কাঁপানো ক্যারিবিয়ানদের কেন আজ বিশ্বকাপ খেলতে বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল মঞ্চে ঢুকতে হয়, কিংবা অনেক সময় বাদ পড়তে হয়-তার জবাব লুকিয়ে আছে এই ঘটনাতেই। বিশ্বের বিভিন্ন কোণায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের লোভনীয় চুক্তির পেছনে ছুটতে গিয়ে জাতীয় দলের দায়বদ্ধতা আজ ঠেকেছে তলানিতে।
তবে এমন পরিস্থিতির মধ্যেও কোচের বিশ্বাস, স্কোয়াডে থাকা বাকি বোলাররা ঠিকই পাকিস্তান দলের ২০টি উইকেট শিকার করার মতো সামর্থ্য রাখে।
ড্যারেন স্যামি বলেন, ‘যা-ই হোক না কেন, আমাদের যে বোলিং আক্রমণ আছে তারা টেস্টে ২০ উইকেট তুলে নিতে সক্ষম। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে আমরা বল হাতে সমকক্ষ লড়াই করেছি। শ্রীলঙ্কা সিরিজে ব্যাটাররাও বড় রান পেয়েছে। ব্যাটাররা রান করলে আমাদের এই বোলিং লাইনাপ নিয়েই ম্যাচ জেতা সম্ভব।’
শামার জোসেফ, কেমার রোচ, জেইডেন সিলসদের নিয়ে পাকিস্তান বধের ছক কষছেন স্যামি। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগে আলজারি জোসেফের এই বিমুখতা আরও একবার বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে-টাকার ঝনঝনানি আর ব্যক্তিস্বার্থের কাছে কি এভাবেই ধীরে ধীরে ধসে পড়বে সাবেক বিশ্বজয়ীদের ক্রিকেট ঐতিহ্য?





