বিতর্কে মিরাজের নেতৃত্ব; নিজের জন্য নাকি দলের জন্য খেলেন!

মেহেদী হাসান মিরাজ
মেহেদী হাসান মিরাজ | ছবি: ইএসপিএন ক্রিকইনফো
0

অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ কি সত্যিই নিজের জন্য খেলেন? নাকি দল বেশি প্রাধান্য পায় এ অলরাউন্ডারের কাছে? অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই মিরাজের অনেক সিদ্ধান্তই প্রশ্ন তুলেছে ক্রিকেট ভক্তদের মনে। তবে এর কতটা সত্য আর কতটা সোশ্যাল মিডিয়ার মন্তব্য?

বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বলেন, ‘আমি নিজেকে নিয়ে কখনো চিন্তা করি না। আমি চেষ্টা করি দলের প্রয়োজনে কতটা ভালো করা যায় এবং দলকে জয় পেতে সহযোগিতা করা যায়।’

নিজেকে নিয়ে ওঠা প্রশ্নে জবাব দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। পাকিস্তান সিরিজে জয় পেলেও অধিনায়ক মিরাজের সিদ্ধান্ত, নিজের খেলার ধরণ কিংবা নানামুখী মন্তব্য বারবারই প্রশ্ন তুলেছে টাইগার দলপতিকে নিয়ে। প্রশ্নটা সরল, অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ কি সত্যিই আত্মকেন্দ্রিক ক্রিকেট খেলে থাকেন?

আরও পড়ুন:

পরিসংখ্যান বেশ স্পষ্ট। পূর্ণমেয়াদে অধিনায়ক হওয়ার পর ১২ ম্যাচে মিরাজের গড় ১৭ এর ঘরে। বেশিরভাগ ম্যাচেই নিজেকে উঠিয়ে এনেছেন ৪ থেকে ৬ নম্বরে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে নিজের ব্যাটিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে সময় এই পজিশনেই পার করেছেন মিরাজ। ৭ থেকে ৯ নম্বরে মিরাজের ব্যাটিং থেকে দল উপকৃত হলেও অধিনায়ক হওয়ার পর এই পজিশনে দেখা যায়নি তাকে।

বোলিংয়েও মিরাজকে নিয়ে আছে প্রশ্ন। অধিনায়ক হওয়ার আগে গড়ে ৮ ওভারের কম বোলিং করলেও বর্তমানে বল করছেন গড়ে ৯ ওভারের বেশি। নতুন ব্যাটার ক্রিজে এলেই নিজেকে হাজির করিয়েছেন। আবার কখনো নিজের স্পেল পুরো করেছেন বাকিদের সুযোগ না দিয়েই। যার শেষ উদাহরণ পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে।

অবশ্য মিরাজের এমন সব সিদ্ধান্ত ইতিবাচক নজর থেকে ব্যাখ্যা দিতে চেয়েছেন সাবেক নির্বাচক হান্নান সরকার।

সাবেক নির্বাচক ও কোচ হান্নান সরকার বলেন, ‘মিডেল অর্ডারে যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছিলো সেখানে মিরাজকে সেট করার পরিকল্পনা ছিলো কিন্তু তা সফল হয়নি। তারপর মিরাজ সেখান থেকে সরে এসেছিলো। সে জায়গা থেকে সরে আবার সাতে চলে এসেছে। আমরা মনে হয় একটা পার্ট ছিলো। কিন্তু বর্তমানে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তা আমি নেগেটিভভাবে দেখতে চাই না।’

বছর ঘুরলেই বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশ মেহেদি মিরাজের অধীনেই খেলবে কি না তা নিয়ে এখনই প্রশ্ন উঠেছে। অধিনায়ক মিরাজের পারফরম্যান্স সেসব প্রশ্নের পালে আরও জোর হাওয়া দিচ্ছে।

জেআর