Recent event

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নতুন শুরুর অপেক্ষায় ক্রীড়াঙ্গন

ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যত নিয়ে সংশ্লিষ্টদের অভিমত
ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যত নিয়ে সংশ্লিষ্টদের অভিমত | ছবি: এখন টিভি
0

দীর্ঘদিনের পুরাতন এক ছক ভেঙে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। পুরো জাতির মতো ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আর নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের অপেক্ষা ক্রীড়াঙ্গনেও। কেউ চাইছেন নতুন শুরু, কেউ চান অতীতের বিচার। এখন টিভিকে ক্রীড়াঙ্গনের মানুষরা জানালেন নির্বাচন ঘিরে নিজেদের প্রত্যাশার কথা।

একটি নির্বাচন। একটি নতুন শুরুর প্রত্যাশা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সারাদেশের আগ্রহ পরিবর্তন আর সম্ভাবনার প্রশ্নে। আমজনতার সঙ্গে নতুন কিছুর প্রত্যাশায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনও। রাজনীতি আর খেলার মাঠের মেলবন্ধনে নতুন কিছু পেতে চান খেলার জগতের মানুষরা।

দেশের ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতির সখ্যতা একেবারেই নতুন না। সাবেক বিসিবি পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবু আশা করেন, নতুন নেতৃত্ব পরিবর্তন আনবে ক্রিকেটের যুগ যুগ ধরে চলে আসা কাঠামোতে।

বিসিবির সাবেক পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘এ নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার আসবে সে সরকারের কাছে আমরা ডেফিনিটলি চাই যে তারা সুষ্ঠু, সুন্দরভাবে ক্রীড়াঙ্গনকে সাজাবে। ক্রীড়াঙ্গনে যে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে সেগুলো থেকে মুক্ত থাকবে এবং আমরা সুষ্ঠু ধারায় ফিরতে চাই।’

অবশ্য পরিবর্তন আর নতুনের কথা বললেও বিগত দিনের অনিয়মের বিচারও চান ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখেরা।

বাংলাদেশের শ্যুটার শারমিন আক্তা রত্না বলেন, ‘অবশ্যই আমরা চাইবো যে অতীতে যে ভুলগুলো হয়ে এসেছে বা অন্যায় হয়েছে সেগুলোর বিচার যদি আসলে না হয় সেটা সাইড কাটিয়ে যদি বলি আমরা নতুন বন্দোবস্ত চাই তাহলে সেটা হবে না। আপনাকে তো একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।’

রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘গত ১৭ বছর ও এক দেড় বছরে যে অনিয়ম হয়েছে প্রত্যেকটিরই আমরা ‍সুষ্ঠু বিচার ও তদন্ত দাবি করবো ইনশাআল্লাহ।’

খেলার মাঠে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থাকলেও দলীয়করণ মুক্ত এক পরিবেশ প্রত্যাশা করেন খেলোয়াড়, সংগঠক আর কোচরা।

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ বলেন, ‘যারাই আসবেন তাদের এ ফেডারেশনগুলোকে একটু সাপোর্টিং রোলের জন্য খেয়াল রাখতে হবে। এখন দলীকরণ বা কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যাকগ্রাউন্ড থাকে তাহলে তারাই বুঝবেন এখানে সাকসেস দরকার নাকি সময়কালীন কমিটি করা দরকার। তাহলে এটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।’

শ্যুটার শারমিন আক্তা রত্না বলেন, ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সাধারণত রাজনীতি সংশ্লিষ্ট হবে না হবে সরকারের। যে সরকারই আসুক ক্রীড়াঙ্গন যারা নিয়ন্ত্রণ করবে তারা যেন সে সরকারের সঙ্গে স্বদ্ভাব বজায় রাখে। এখানে দলীয়করণ মুখ্য না মুখ্য হবে সরকারের সঙ্গে তাদের কমিউনিকেশন কেমন হবে।’

বাংলাদেশ টেবিল টেনিসের কোচ সৈয়দ মুহমুদাজ্জামান শাহেদ বলেন, ‘যারা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কিন্তু স্পোর্টস ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছে। একজন সাধারণ মানুষ ও একজন স্পোর্টস ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ কিন্তু একেবারে আলাদা হবে। একজন সাধারণ মানুষ কিন্তু অনেক সময়ই বুঝতে পারে না সে কি করবে। কিন্তু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি যিনি ন্যাশনাল পর্যায়ে খেলেছেন তেমন কেউ আসলে আমাদের খেলাধুলার জন্য ভালো হয়।’

সপ্তাহ ঘুরলে বাংলাদেশ পাবে নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন পর ক্ষমতার কেন্দ্রে দেখা যাবে প্রথমবারের মতো উঠে আসা কাউকে। নতুনত্বের সেই আবহে ইতিবাচক হাওয়া বইবে দেশের খেলায়, এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

এএম