Recent event

মিরপুর স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত, কেন এমন সিদ্ধান্ত বিসিবির?

বিসিবির লোগো
বিসিবির লোগো | ছবি: এখন টিভি
0

ক্রীড়া সাংবাদিকদের অসহযোগিতার চূড়ান্ত নিদর্শন যেন দেখিয়ে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্রথমে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা। এর পরদিনই ফিটনেস ক্যাম্প কভার করতে স্বল্প সময়ের নোটিশ দেয়া। সব মিলিয়ে বিসিবির এমন সিদ্ধান্তে হতাশ ক্রীড়া সাংবাদিকরা।

গতকাল (শনিবার, ৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা। এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রীড়া সাংবাদিকদের অবস্থান ও কার্যক্রমের ওপর নতুন কিছু নিয়ম ও বিধি-নিষেধ জারি করে বিসিবির মিডিয়া বিভাগ। যেখানে জানানো হয়, এখন থেকে ম্যাচের দিন, প্রেস কনফারেন্স, অনুশীলন বা বিশেষ ইভেন্ট ছাড়া সাংবাদিকরা স্টেডিয়ামে প্রবেশ বা অবস্থান করতে পারবেন না।

ঠিক একদিন পর, আজ (রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে এগারোটা। বিসিবির মিডিয়া বিভাগ জানায়, সকাল ১১টা থেকে দুপুর পৌনে একটা পর্যন্ত মিরপুরে ফিটনেস সেশন করবেন ক্রিকেটাররা। এত স্বল্প সময়ের নোটিশে অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমই যথাসময়ে উপস্থিত হতে পারেনি।

এদিকে গুটিকয়েক যে কয়টি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি স্টেডিয়াম পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলেন, তারা চিরচেনা মিডিয়া সেন্টারের সামনে গিয়ে থমকে যান। কেননা অন্যান্য সময় মিডিয়া সেন্টারের প্রেস বক্স বা বাইরের জার্নালিস্ট রুমে বসার ব্যবস্থা থাকলেও এদিন সব ছিল তালাবদ্ধ।

আরও পড়ুন:

শেষমেশ বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেই অনুশীলনের ভিডিও ধারণ করেন সংবাদকর্মীরা। বিসিবির এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। এ ধরনের সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেন তারা।

সমকালের সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক সেকেন্দার আলী বলেন, ‘যেকোনো নিয়ম করার আগে সবকিছু গুছিয়ে নেয়া উচিত। আপনি যেটা করলেন, সেটা হচ্ছে— আগের রাতে আপনার প্রেস রিলিজ দেয়া উচিত ছিল এবং এটা জানানো উচিত ছিল যে, এই সময় থেকে এই সময় আপনার জন্য স্লট বরাদ্দ দেয়া হলো, আপনি আসবেন। এ দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে যখন আপনি ভারতে খেলতে যান না, তেমনই বুঝতে হবে যে, মানুষের কথা বিবেচনা করেই আপনার প্রচার প্রয়োজন। পাবলিক প্রোপার্টিতে সাংবাদিকরা আসবে এবং এটা প্রচার করবে, রাষ্ট্রের স্বার্থে।’

এনটিভির জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মোমিনুর রিপন বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জায়গা হচ্ছে, সচিবালয়, যেখান থেকে পুরো বাংলাদেশ পরিচালিত হয়। সেখানেও কিন্তু এমন রেস্ট্রিকশন নেই যে, আপনি আসতে পারবেন না। বিসিবি যেহেতু এ রেস্ট্রিকশন দিয়েছে, আমার মনে হয় এটা তাদের কোনো ভয় থেকে করেছে। কেননা সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবির অনিয়ম-দুর্নীতি খুব বেশি প্রকাশ পাচ্ছে। আসলে গণমাধ্যমকে এভাবে আটকে আপনি এটা রোধ করতে পারবেন না। যদি আপনি দুর্নীতি রোধ করতেই চান, ভেতর থেকে রোধ করতে হবে।’

মুখে মুখে বিসিবি সবসময়ই স্বীকার করে, দেশের ক্রিকেটের অন্যতম বড় স্টেকহোল্ডার ক্রীড়া সাংবাদিকরা। তবে তাদের কার্যক্রম প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিল বিসিবির ভূমিকাকেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে কী আড়াল করতে চান ক্রিকেট বোর্ডের নীতিনির্ধারকরা— এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

এসএইচ