ইউরোপের স্বপ্ন দেখিয়ে নেপালে পাচার; প্রতারণার ফাঁদে বাংলাদেশি তরুণরা

স্বপ্ন দেখিয়ে নেপালে পাচার
স্বপ্ন দেখিয়ে নেপালে পাচার | ছবি: এখন টিভি
0

ইউরোপের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের নেপালে নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে একটি চক্র। আটকে রেখে আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। পাসপোর্ট জিম্মি থাকায় ভয়-আতঙ্কে দিন কাটছে তরুণদের। প্রতারিত হলেও প্রাণনাশের ভয়ে প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না অনেকে।

পুরান ঢাকার মতো জীর্ণ-শীর্ণ দালান। খোলা জানালাগুলো সাক্ষ্য দিচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন প্রতারণার গল্পের। এ শহরের চার দেয়ালে বন্দিদের আর্তনাদ শোনার যেন কেউই নেই। বন্দিদশায় ভেঙে যাচ্ছে অসংখ্যা তরুণের ইউরোপের স্বপ্ন। দালানগুলোর অধিকাংশই আবাসিক হোটেল। যেখানে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে আটক, অত্যাচার আর নিপীড়নের নতুন নতুন কাহিনি।

এটি কাঠমাণ্ডুর থামেল শহর। ইউরোপে পাঠানোর স্বপ্ন দেখিয়ে তরুণদের এ শহরে এনে আটকে রাখছে দালালচক্র। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা যাবার কথা থাকলেও গন্তব্য শেষ হচ্ছে নেপালে এসেই। ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে কেউ কেউ মুক্তি পেলেও প্রাণনাশের হুমকিতে পরিবারকে জানাতেও পারছেন না নিজের সবশেষ অবস্থান। দেশটিতে মানবপাচারে শিকার ও প্রতারিত হওয়া এমন কয়েকজন তরুণের সন্ধান পায় এখন টেলিভিশন।

আরও পড়ুন:

ভুক্তভোগী একজন বলেন, ‘দালার চক্র আমার কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নেয়। তারপর ১ মাস পর আমাকে নেপালের ভিসা দেয়। তারা আমাকে বলে নেপাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা হবে।’

বিদেশ যাত্রা ও মুক্তির জন্য নারায়ণগঞ্জের রাজিবের পরিবার দালালকে পরিশোধ করে প্রায় ২২ লাখ টাকা। অস্ট্রেলিয়া নেয়ার কথা বলে তাকে নেপালের একটি হোটেলে আটকে রেখে দফায় দফায় এই টাকা আদায় করে ওই চক্র। পরে চক্রের সদস্যরা স্থানীয় সুইট টাউন হোটেলে তার পাসপোর্ট জিম্মি রেখে পালিয়ে যায়। ওই হোটেলের বকেয়া বিল এসেছে প্রায় আড়াই লাখ নেপালি রুপি। ভাড়া ও জরিমানা পরিশোধে অক্ষম হওয়ায় রাজিবের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। যা পরিশোধ করলেই কেবল দেশে ফিরতে পারবেন এ স্বপ্নভাঙা তরুণ।

ভুক্তভোগী রাজিব বলেন, ‘দালাদদের কাজই এটা মানুষ জন এনে আটকে রেখে অর্থ আদায় করা। আমাকে আটকে রেখে অনেক নির্যাতন করেছে। আমার দুইটা মেয়ে আছে। এখন আমি এখানে আটকা আমরা পাসপোর্টও হোটেলে আটকা আছে।’

হোটেল মালিক বলেন, ‘ছয়-সাত মাস আগেও সে (দালাল চক্রের সদস্য নাসিম) এখানে থেকে গেছে। পরিচয়ের সূত্রে তাকে এখানে থাকতে দিয়েছি। বলেছিলো এর (রাজিব) দায়িত্বও নাসিম নেবে।’

কাজের অনুমতি না পাওয়ায় দেশটিতে স্থায়ী বসবাসকারী বাংলাদেশির সংখ্যা খুবই কম। বিজনেস ও রেসিডেন্স ভিসা মিলে এ সংখ্যা একশ জনের মতো। গত সংসদ নির্বাচনে দেশটি থেকে পোস্টাল ব্যালেটে নিবন্ধন করেছিলেন মাত্র ৪৭ জন বাংলাদেশি। অথচ গত কয়েক বছর দেশটিতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশির সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৫০ হাজারের বেশি।

আরও পড়ুন:

নেপাল বাংলাদেশ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিহির চৌধুরী বলেন, ‘কিছু বাংলাদেশি আছে যারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। এম্বাসিসহ আমরা ৬০ থেকে ৭০ জন আছি।’

নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেড অব চ্যান্সেরি মো. শোয়েব আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কিছু লোক আসলেই আসতো ভিসা আবেদন করার জন্য। আবার কিছু দালাল চক্র মানুষকে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে আসতো আসলে তারা ভিসা পেতো না।’

কাঠমান্ডু শহরের এমন অলি-গলিতে এমন প্রতারণার শিকার অসংখ্য বাংলাদেশি তরুণের সন্ধান মিলছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ইউরোপের কথা বলে তাদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে নেপালে। এমন অবস্থায় বিমানবন্দরে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সরকারিভাবে সচেতনতার উদ্যোগ নিতে বলছেন ভুক্তভোগীরা।

জেআর