কাবা শরিফে উল্টোভাবে হাঁটলে কি তাওয়াফ হবে? জেনে নিন শরিয়তের সঠিক বিধান

তাওয়াফের সঠিক নিয়ম
তাওয়াফের সঠিক নিয়ম | ছবি: এখন টিভি
0

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হজ ও ওমরাহ (Hajj and Umrah) পালনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো পবিত্র কাবা ঘর প্রদক্ষিণ করা, যাকে ইসলামি পরিভাষায় তাওয়াফ (Tawaf) বলা হয়। হাজরে আসওয়াদের (Hajr-e-Aswad) কোণ থেকে শুরু করে কাবার চারদিকে সাতবার ঘোরাকে এক তাওয়াফ বলা হয়। তবে তাওয়াফ চলাকালীন ভিড়ের চাপে অনেকেরই বুক বা পিঠ কাবার দিকে ঘুরে যায়। এমতাবস্থায় তাওয়াফ কবুল হবে কি না, তা নিয়ে অনেক হজযাত্রীর মনেই প্রশ্ন জাগে।

একনজরে তাওয়াফ সংক্রান্ত মাসআলা (Tawaf Rules at a Glance)

বিবরণ (Description) শরয়ি বিধান (Islamic Rule)
কাবার অবস্থান শরীরের বাম দিকে থাকতে হবে
উল্টোভাবে হাঁটা তাওয়াফ বাতিল হবে (Invalid)
বুক/পিঠ ঘুরে যাওয়া ওই অংশ পুনরায় সম্পন্ন করতে হবে
নফল তাওয়াফ ফরজ তাওয়াফের মতোই পালনীয়

আরও পড়ুন:

তাওয়াফের মূল শর্ত ও নিয়ম (Rules and Conditions of Tawaf)

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, তাওয়াফ শুদ্ধ হওয়ার জন্য কাবা ঘরকে সবসময় শরীরের বাম দিকে (Left Side) রাখতে হয়। তাওয়াফের সময় কাবার দিকে মুখ করা বা কাবার দিকে পিঠ দিয়ে অর্থাৎ পেছন ফিরে বা উল্টোভাবে হাঁটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

উল্টোভাবে হাঁটলে বা বুক-পিঠ ঘুরে গেলে করণীয় (What to do if Back or Chest faces Kabah)

তাওয়াফ করার সময় প্রচণ্ড ভিড় বা ধাক্কাধাক্কির কারণে যদি কারো বুক বা পিঠ কাবার দিকে ঘুরে যায়, তবে নিচের নিয়মগুলো পালন করা জরুরি:

অকার্যকর অংশ: বুক বা পিঠ কাবার দিকে থাকা অবস্থায় যতটুকু পথ অগ্রসর হওয়া হবে, তাওয়াফের অংশ হিসেবে তা গণ্য হবে না।

পুনরায় সম্পন্ন করা: যতটুকু জায়গা কাবার দিকে মুখ বা পিঠ দিয়ে অতিক্রম করা হয়েছে, ততটুকু স্থান পুনরায় সঠিক নিয়মে (বাম দিকে কাবা রেখে) অতিক্রম করতে হবে।

চক্কর বাতিল: যদি ভিড়ের কারণে পেছনে ফিরে ওই জায়গা পুনরায় অতিক্রম করা সম্ভব না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট চক্করটি (Circuit) বাতিল করে নতুন করে একটি চক্কর দিতে হবে।

তাওয়াফের ফজিলত (Virtues of Tawaf)

তাওয়াফের অসামান্য গুরুত্ব সম্পর্কে হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর চারদিকে সাতবার প্রদক্ষিণ করবে এবং তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করবে, তা একজন গোলাম আজাদ করার সমতুল্য সওয়াব।" তিনি আরও জানান, তাওয়াফের প্রতি কদমে আল্লাহ তাআলা বান্দার একটি করে গুনাহ মাফ করেন এবং একটি করে সওয়াব (Reward) দান করেন।

আরও পড়ুন:

এসআর