*তথ্যসূত্র: হাদিস শরিফ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন।জুমাতুল বিদা ২০২৬: তাৎপর্য ও সুন্নতি আমল
বিভাগ (Category) বিস্তারিত বিবরণ (Details) দিনের শ্রেষ্ঠত্ব জুমার দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। এদিন হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল। বিশেষ সওয়াব রমজান ও জুমার সম্মিলনে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব ৭০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। প্রস্তুতি ও পরিচ্ছন্নতা ভালোভাবে গোসল করা, উত্তম পোশাক পরা এবং আতর/সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। মসজিদে গমন পায়ে হেঁটে আগে আগে মসজিদে যাওয়া এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা জরুরি। বিশেষ আমল বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ, তওবা-ইস্তেগফার এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য দোয়া (আল-কুদস দিবস)।
আরও পড়ুন:
জুমাতুল বিদার গুরুত্ব ও মহত্ত্ব (Significance of Jumatul Wida)
জুমাতুল বিদা মূলত দুটি বিশেষ কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
১. রমজানের বিশেষ সওয়াব: রমজান মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব (Rewards of Good Deeds) ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। শেষ জুমায় এই সওয়াব হাসিলের চূড়ান্ত সুযোগ থাকে।
২. জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব (Excellence of Jumu'ah): হাদিস অনুযায়ী, জুমার দিন হলো সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন (Best day of the week)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দিনের মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন।’ (জামে তিরমিজি)। এই দিনেই হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল।
জুমাতুল বিদার ৯টি সুন্নতি আমল (Sunnah Acts of Friday)
জুমাতুল বিদা বা যেকোনো জুমার দিনে বিশেষ সওয়াব হাসিলের জন্য নিচের ৯টি আমল পালন করা সুন্নত:
- সাবান বা পরিষ্কার সামগ্রী দিয়ে ভালোভাবে গোসল করা (Taking a bath)।
- সাধ্যমতো নতুন বা উত্তম পোশাক (Best clothes) পরা।
- সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার (Using perfume/Attar) করা।
- যানবাহন এড়িয়ে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া (Walking to the mosque)।
- দেরি না করে আগে আগে মসজিদে প্রবেশ (Entering mosque early) করা।
- ইমামের কাছাকাছি জায়গায় বসা এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা (Listening to Khutbah)।
- রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ (Reciting Durood Sharif) করা।
- কাউকে কষ্ট না দেওয়া এবং অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা।
- জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা।
আরও পড়ুন:
আল-কুদস দিবস ও বিশ্ব মুসলিম সংহতি (Al-Quds Day)
বিশ্বব্যাপী অনেক মুসলমান রমজানের শেষ শুক্রবারকে আল-কুদস দিবস (International Al-Quds Day) হিসেবে পালন করেন। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের পবিত্র মসজিদ আল-আকসা (Al-Aqsa Mosque) মুক্তির দাবিতে এবং মজলুম ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।
জুমাতুল বিদা মূলত রমজানকে বিদায় জানানোর এক অনন্য সুযোগ। এই দিনে আমাদের উচিত বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার (Repentance and Forgiveness) করা এবং সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করা।
আরও পড়ুন:
জুমাতুল বিদার আসরের পর বিশেষ আমল: দোয়া কবুলের সেরা সুযোগ
রমজানের শেষ শুক্রবার বা জুমাতুল বিদার (Jumatul Wida) সূর্যাস্তের আগের সময়টুকু মুমিন মুসলমানের জন্য এক মহাসুযোগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন কোনো মুসলিম বান্দা নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ তাকে তা দান করেন।" (সহিহ বুখারি)। বিশেষ করে রমজানের শেষ জুমায় এই সময়ের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়।
একনজরে জুমাতুল বিদার শেষ মুহূর্তের আমল
আমলের নাম (Amal Name) ফজিলত ও নিয়ম (Virtues & Method) বিশেষ দরুদ শরিফ ৮০ বার পাঠ করলে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। সাআতুল ইজাবাহ মাগরিবের ঠিক আগে একাগ্রচিত্তে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইস্তেগফার রমজানের ভুলভ্রান্তি ও জীবনের গুনাহ থেকে ক্ষমা চাওয়ার শেষ সময়।
আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ৫টি বিশেষ আমল (Key Deeds after Asr)
১. বেশি বেশি দরুদ পাঠ (Reciting Durood): জুমার দিনে দরুদ পাঠের সওয়াব অনেক বেশি। আসরের নামাজের পর জায়নামাজে বসে ৮০ বার "আল্লাহুম্মা সাললি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লিম তাসলিমা" পাঠ করার বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
২. তওবা ও ইস্তেগফার (Repentance and Istighfar): রমজান মাস বিদায় নিচ্ছে, তাই নিজের গুনাহ মাফের জন্য এই সময়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা এবং 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি।
৩. কোরআন তিলাওয়াত (Quran Recitation): বিশেষ করে সূরা কাহাফ (Surah Al-Kahf) যদি আগে পড়া না হয়ে থাকে, তবে এই সময়ে তা শেষ করা বা অন্তত শেষ ১০ আয়াত তিলাওয়াত করা উত্তম।
৪. নিভৃতে দোয়া করা (Supplication in Solitude): মাগরিবের ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তটি দোয়া কবুলের জন্য নির্ধারিত। এই সময়ে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ চেয়ে এবং ফিলিস্তিনসহ সারা বিশ্বের মজলুম মুসলিমদের জন্য দোয়া করা উচিত।
৫. জিকির ও তাসবিহ (Dhikr and Tasbih): সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু পাঠ করে আল্লাহর প্রশংসা করা।
জুমাতুল বিদা সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নের উত্তর (Q&A)
প্রশ্ন: জুমাতুল বিদা কী? (What is Jumatul Wida?)
উত্তর: জুমাতুল বিদা হলো পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার। 'জুমা' মানে শুক্রবার এবং 'বিদা' মানে বিদায়; অর্থাৎ রমজানকে বিদায় জানানোর শেষ জুমা।
প্রশ্ন: জুমাতুল বিদার বিশেষ নামাজ কত রাকাত? (How many rakats in Jumatul Wida prayer?)
উত্তর: জুমাতুল বিদার আলাদা কোনো বিশেষ নামাজ নেই। জোহরের সময়ে অন্যান্য জুমার মতোই ২ রাকাত ফরজ নামাজ (ইমামের পেছনে) আদায় করতে হয়।
প্রশ্ন: এদিন কি বিশেষ কোনো খুতবা হয়? (Is there a special Khutbah for this day?)
উত্তর: হ্যাঁ, খতিব সাহেবরা সাধারণত এদিন রমজানের গুরুত্ব, বিদায় এবং ঈদুল ফিতর নিয়ে বিশেষ দিকনির্দেশনামূলক খুতবা প্রদান করেন।
প্রশ্ন: জুমাতুল বিদার ফজিলত কী? (What are the virtues of Jumatul Wida?)
উত্তর: রমজানের বরকত এবং জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব—এই দুটির সম্মিলনে দিনটি অত্যন্ত মহিমান্বিত। এদিন দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে।
প্রশ্ন: জুমাতুল বিদা ও আল-কুদস দিবসের সম্পর্ক কী? (Relation between Jumatul Wida and Al-Quds Day?) উত্তর: ১৯৭৯ সাল থেকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে রমজানের শেষ শুক্রবারকে বিশ্বব্যাপী 'আল-কুদস দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।
প্রশ্ন: জুমাতুল বিদার দিন কোন সূরা পাঠ করা উত্তম? (Which Surah is best to recite on this day?)
উত্তর: জুমার দিনে সূরা 'কাহাফ' পাঠ করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে, যা জুমাতুল বিদার দিনও একইভাবে প্রযোজ্য।
প্রশ্ন: এদিন কি কবরের আজাব মাফ হয়? (Is grave punishment pardoned on this day?)
উত্তর: হাদিস অনুযায়ী, মুমিন ব্যক্তি জুমার দিনে মারা গেলে কবরের আজাব থেকে মুক্তি পাওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। তবে এর বিশেষ সওয়াব জুমাতুল বিদায় আরও মহিমান্বিত হয়।
প্রশ্ন: জুমাতুল বিদার দিন দোয়া কবুলের সময় কোনটি? (When is the dua acceptance time on this day?)
উত্তর: জুমার দিন আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টিকে দোয়া কবুলের অন্যতম বিশেষ সময় হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রশ্ন: জুমাতুল বিদার দিন কি রোজা রাখা ফরজ? (Is it obligatory to fast on Jumatul Wida?)
উত্তর: যেহেতু এটি রমজান মাসের অন্তর্ভুক্ত, তাই সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলিমের ওপর এদিন রোজা রাখা ফরজ।
প্রশ্ন: জুমাতুল বিদায় কি বাড়তি কোনো নফল নামাজ আছে? (Is there any extra Nafl prayer on Jumatul Wida?) উত্তর: আলাদা কোনো নফল নামাজ নির্দিষ্ট নেই, তবে বেশি বেশি তওবা, ইস্তেগফার এবং দরুদ শরিফ পাঠ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
প্রশ্ন: জুমাতুল বিদা কি ঈদুল ফিতরের চেয়েও বড়? (Is Jumatul Wida bigger than Eid-ul-Fitr?)
উত্তর: না, ঈদুল ফিতর হলো মুসলিমদের জন্য প্রধান আনন্দ উৎসব। জুমাতুল বিদা হলো ইবাদত ও রমজানের বিদায়ের একটি বিশেষ স্মারক দিন।
প্রশ্ন: নারীরা কি জুমাতুল বিদার নামাজ পড়তে পারেন? (Can women perform Jumatul Wida prayer?)
উত্তর: যে সকল মসজিদে নারীদের জুমার নামাজের ব্যবস্থা আছে, সেখানে তারা অংশ নিতে পারেন। অন্যথায় ঘরে জোহরের নামাজ আদায় করবেন।
প্রশ্ন: জুমাতুল বিদার দিন দান-সদকার গুরুত্ব কেমন? (Importance of charity on Jumatul Wida?)
উত্তর: রমজানের শেষ সময়ে দান-সদকার সওয়াব অনেক বেশি। বিশেষ করে ফিতরা বা যাকাত আদায়ের জন্য এটি একটি মোক্ষম সময়।
প্রশ্ন: এদিন কি বিশেষ কোনো খাবার খাওয়ার নিয়ম আছে? (Are there any special food rules for this day?)
উত্তর: ইসলামে এদিন বিশেষ কোনো খাবারের নিয়ম নেই। তবে ইফতারের সময় পরিবারের সাথে ভালো খাবার খাওয়া একটি সামাজিক আনন্দ।
প্রশ্ন: জুমাতুল বিদার দিন কেন দরুদ পাঠ করা জরুরি? (Why is it important to recite Durood on this day?)
উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনে তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে বলেছেন, কারণ এদিন তা তাঁর কাছে পেশ করা হয়।





